প্রথম আলোতে মনের জানালা নামের বিভাগটি আমার অনেক পছন্দের । মানুষের নানা প্রশ্ন উওর দেওয়া হয়। কিন্তু সবগুলো হয়ত সঠিক সমাধান হয় না।তবুও কিছুটা হলেও উপকার হয় ভুক্তভোগীর। আমি নিয়মিত এই মনের জানালার পাঠক। এই সব লেখাগুলো নিজের সংগ্রহে রাখার জন্য এই বিভাগটি অনেক আগে খুলে ছিলাম কিন্তু তা আর আপডেট করা হয়নি অনেকদিন। তাই ভাবলাম আজ থেকে মনের জানালায় প্রাপ্ত প্রশ্নগুলো ব্লগে কপি মারব।
যদিও কপি পেস্ট করতে ভাল লাগে না ।কিন্তু এই প্রশ্নগুলো নিজের সংগ্রহে রাখার জন্য এই বিভাগটি। যদিও কেউ কখনো তার প্রশ্নের উওর পায়।দেখা যায় হয়ত সবার এই প্রশ্নগুলো পড়ার সময় হয় না। দেখা যায় অনেক প্রশ্ন অনেকের সাথে মিলে যায়। আর আমি একটা জিনিস বিশ্বাস করি যে চিন্তা এবং যুক্তি দিয়ে সব কিছু সমাধান করা যায়। বিশেষ করে মানবিক বিভিন্ন ঘটনা।

ড. মেহতাব খানম
সমস্যা: আমি এসএসসি পরীক্ষার্থী। লেখাপড়ায় মোটামুটি ভালো। পঞ্চম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে এবং অষ্টম শ্রেণীতে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছি। কিন্তু আমি এখন আর আগের মতো পড়তে পারছি না। একটা দুর্ঘটনা আমার জীবনকে পাল্টে দিচ্ছে। আমি যখন সবে দশম শ্রেণীতে পড়ছি তখন একটা ছেলে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। আমি তা প্রত্যাখ্যান করায় সে আমার স্কুলের পথরোধ করে দাঁড়ায়। প্রায়ই সে আমাকে উত্ত্যক্ত করে। একদিন আমি ওই ছেলেটার ব্যাপারে স্কুলের শিক্ষকের কাছে জানালে সে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেয়। পরে জানতে পারলাম, সে একটা বখাটে ছেলে। কাউকে পরোয়া করে না। খুনখারাবি করা নাকি তার পেশা। এমনকি আমার মতো অনেক মেয়ে তার অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কারণে জীবন দিতে হয়েছে। ঘটনা আমার পরিবার জানার পর আমার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
পরামর্শ: এ ধরনের ঘটনা অনেক ঘটছে। তবে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকেও তৎপরতা দেখে আমরা কিছুটা আশান্বিত হয়েছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমও যথেষ্ট সোচ্চার ছিল। তুমি প্রচণ্ড ভীতির মধ্যে রয়েছ বলে মনে হচ্ছে। হয়তো পরিবারের ওপর খুব একটা নির্ভরও করতে পারছ না। তবে তোমাকে অবশ্যই একটি ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। তোমার পরিবারই কেবল এই সংকটে তোমার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে পারে। তাঁদের সহমর্মিতা এবং সঠিক পদক্ষেপ ছাড়া তোমার পক্ষে এত বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কোনো অবস্থাতেই এই সন্ত্রাসী ছেলেটির প্রস্তাব গ্রহণ করা ঠিক হবে না। ছেলেটি তোমাকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসে না, সে প্রভাব খাটিয়ে নিজের জেদ বজায় রাখার জন্যই এই আচরণগুলো করছে। সত্যিকারের ভালোবাসা থাকলে কেউ কখনো কারও ওপর জোর খাটায় না। তা ছাড়া ভালোবাসার সঙ্গে শ্রদ্ধাবোধের মিশ্রণ না থাকলে তার পরিণাম অত্যন্ত ভয়ংকর হয়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিবারের কারও কাছে কথাগুলো খুলে বলো। লেখাপড়ায় এত ভালো একটি মেয়েকে তাঁরা নিশ্চয়ই সাহায্য করবেন। তুমি যে শিক্ষককেও ব্যাপারটি জানিয়েছিলে, তা-ও পরিবারকে জানাও। তারা যেন স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চান। এই ছেলেটির শাস্তি না হলে কিন্তু তোমার মতো আরও অনেক অসহায় মেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাই না? কাজেই তোমার জীবনকে যথাযথ মূল্যায়ন করে নিজের পায়ে দাঁড়াও।
সমস্যা: ছোটবেলা থেকে শুধু পড়াশোনা নিয়ে চিন্তা করেছি। তাই কোনো মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক করা হয়নি। সমাজে চলতে গিয়ে মানসিকতার পরিবর্তন হয়ে যায়। আমার বাবার অর্থসম্পদ অনেক আছে। কিন্তু একটু প্রেমের জন্য মনটা ব্যাকুল থাকে। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো মনের মতো মেয়ের দেখা পেলাম না। পেলেও কাছে গিয়ে বলার মতো সাহস পাই না। কিন্তু যখন যোগ্যতাহীন খারাপ ছেলের সঙ্গে কোনো মেয়েকে দেখি, মনে হয় আমার পড়াশোনার কোনো দাম নেই। কষ্টের একাকী পৃথিবী থেকে চলে যাই। এসব মানসিক চিন্তার কারণে পড়াশোনার খুবই ক্ষতি হচ্ছে।
বাপ্পী, সিরাজগঞ্জ।
পরামর্শ: কোনো মেয়েকে প্রথমেই প্রেমের প্রস্তাব দেওয়াটা মোটেও শোভন নয়। এর ফলও সব সময় ভালো হয় না। তা ছাড়া কারও সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করার আগে একটি সুস্থ বন্ধুত্ব হওয়াটা খুব জরুরি। বন্ধুত্বের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া, শ্রদ্ধাবোধ ও বিশ্বাস তৈরি হওয়ার পরই জীবনব্যাপী সম্পর্কের কথা ভাবা উচিত। অন্য মেয়েরা যোগ্যতাহীন ছেলের সঙ্গে ঘুরে বেড়ালেও তোমাকে বুঝতে হবে, সব সম্পর্কই খুব সুস্থ, সেটি ভেবে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। অনেক দাম্পত্য এবং প্রেমের সম্পর্কেই দেখা যায় তাদের প্রচণ্ড টানাপোড়েন চলছে। এর কারণ হচ্ছে শুধু আবেগের বশে সম্পর্ক তৈরি করা। নিজেকে ছোট ভাবার বা পড়াশোনাকে মূল্যহীন ভেবে তোমার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তোলা একটুও ঠিক হবে না। সাহস সঞ্চয় করে মেয়েদের সঙ্গে একটি সুস্থ ও সুন্দর বন্ধুত্ব তৈরি করো। তাদের মেয়ে হিসেবে না দেখে তোমার মতোই অন্য একটি মানুষ মনে করো। নিজেকে শুধু পড়াশোনার মধ্যে না রেখে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গেও সম্পৃক্ত করো। বিশেষ করে সাংস্কৃতিক চর্চা, বই পড়া, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো—এই বিষয়গুলো আমাদের জীবনের অংশ হলে কখনো বিষণ্নতা তৈরি হয় না। আশা করি, তুমি ভবিষ্যতে একটি ভালো সঙ্গী পাবে।
সহায়ক : উৎস ১
