Category Archives: আমার মুক্তকথা

জব্বার সাহেবকে নিয়ে কিছু কথা এবং যেমন করে ইউনিজয় লেআউট অভ্রতে লিখবেন

আগেই বলে নেই লেখাটি কাউকে আঘাত দেওয়ার জন্য নয়। ব্যাপারগুলো নিজস্ব আমার মাতামত। মনের প্রকাশ যাকে বলতে পারেন। ব্যাপারগুলো আমার কাছে একটু খারাপ লাগল তাই শেয়ার করলাম।

আগের জব্বার সাহেব কে অনেক শ্রদ্ধা করতাম । যখন কম্পিউটারের প্রথম বসলাম এবং নিজের ভাষা বাংলাতে কম্পুতে লিখতে পারতাম। তখন একদিন এর আবিষ্কারকের নাম জানলাম যে জব্বার সাহেবএটা আবিষ্কার করেছেন। খুব শ্রদ্ধার চোখে দেখলাম উনাকে। অনেক বড় আবিষ্কারক মনে করতাম। কিন্তু সেই ছোটবেলার সম্মানটা যেন এখন আর নেই। সম্মানটা এতধুম শূনের কোটায়। কোন বিখ্যাত ব্যাক্তিকে নিয়ে কটু কথা বলতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু আজ জব্বার সাহেব কে নিয়ে কিছু কথা লিখতে বসলাম। ব্যাপারটা ব্যাক্তিগত মতামত বলতে পারেন। জানি লেখাটা যদি ফেইসবুকে নোট করতাম তিনি আমাকে ব্যান করবে। আমার নোট নিয়ে রিপোট করবে। কিন্তু ব্লগে কিছুই বলতে পারবে Continue reading

শাহরুখের অন্ধভক্ত বলছি………..!!!

আমি এই লেখাটা কোথা থেকে শুরু করব ঠিক বুঝতে পারছি না। কোন কথাটা আগে লিখব কোনটা পড়ে লিখব। এলোমেলো একটা লেখা হবে এটা আমি জানি । তবুত্ত লেখা শুরু করলাম। “শাহরুখ খান…. আমার

অনেক প্রিয় একজন অভিনেতা। শাহরুখের “আনজান” থেকে শুরু করে “মাই নেম ইজ খান” সব ছবি আমার দেখা।ভাল লাগে শাহরুখের অভিনয়। একজন অন্ধভক্তই যাকে বলা চলে। কুচ কুছ হোতাহে মুভিটা আমি এতবার দেখেছি তা মনে নেই। কম করে হলেত্ত ৪০ + হবে। আনজান মুভিটা ত্ত অনেক ভাল লেগেছে। যেখানে তিনি ভিলেন এই ভূমিকায় অভিনয় করে।চমৎকার অভিনয় করছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না সবাই তা জানে।“ আমার উপরের কথা গুলো শুনে আপনাদের নিশ্চয় মনে পড়চে বৈশাখী টিভি কথা। এই চ্যানেলটা এমন একটা ফালতু অনুষ্ঠান করবে তা আমি আগেই ভেবে ছিলাম। কথা আছে না যত গজে ততো বর্ষে না। হ্যা এটা মানি শাহরুখ একজন ভাল অভিনেতা।ব্যাক্তিগত জীবনের উনার সকল খবর কি আমরা জানি। টিভি যা দেখায় আমার এতটুকুই জানি। বৈশাখী টিভি বিশেষ্য অতীতিরা কাল সেভাবে কথা বলল মনে হতেছিল আকাশ থেকে ফেরেশতা নেমে আসছে। যা কি না একটা হাস্যকর । আমি নিজে শাহরুখের অন্ধভক্ত। শহরুখের প্রথম থেকে সব ছবি আমার আমার কালেকশনে আছে। আমি মাঝে মাঝে মুভি গুলো দেখি।ভাল লাগে। দেখতে। তাই ভলে শাহরুখ যা করবে তাই ভাল তা হতে পারে না। কোন মানুষ ভুলের উদ্ধে নয় শুধু মাএ আমার মহানবী ছাড়া। কিন্তু বৈশাখী টিভি এই সব কি করেছে। দেখে আমার যে পরিমান হাসি পেয়েছে তা আর বলে শেষ করতে পারব না। কনসাট শুরু হয়েছে ৭টায় আর দুপুর ৩টা থেকে শুরু হয়েছে বৈশাখী টিভিতে ছাগলের মত করে ম্যাত্ত ম্যাত্ত আজব লাগল এই চ্যানেলের টক শু দেখে। বৈশাখী টিভিতে এই সপ্তাহ যেভাবে প্রচারন চালানো হয়েছে মনে করছিলাম কি না কি হবে। যাথারীতি আমার প্রিয় নায়কের লাইভ অনুষ্ঠান না দেখলে কি হয়। তিন হাজার টাকা দিয়ে যাত্তয়া সম্ভব না। তাই টিভিতেই দেখবে। তিনটার দিকে টি.ভি চালু করলাম। দেখি ব্রেকিং নিউজ আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম আগে আবার কি হল। কোন দুঘটনা হয়েছে নাকি। ব্রিকিং নিউজ দেখে তো আমি রীতিমত অবাক। ব্রেকিং নিউজ ১. “শাহরুখ এখন বাংলার মাটিতে।“ ২.”শাহরুখ এখন আর্মি স্টিডিয়ামের পথে । কিছুক্ষনের মধ্যে কনসাট শুরু হবে। হায়রে বাংলাদেশের বৈশাখী টিভি।এগুলো কি কোন ব্রেকিং নিউজ হতে পারে। এগুলো তো আরত্ত হাস্যকর করে তুলেছে অনুষ্ঠানটিতে। যেন ভিন্ন গ্রহ থেকে কোন এলিয়ন আসছে। এমন অবস্থা । আমি তো অনুষ্ঠানটি দেখে রীতিমত হেসে কুটকুট হয়েছে। আর যে বিশেষ টক-শো এর আয়োজন করছে তা তো রীতিমত এই বাংলার ইতিহাসে সেরা টক-শো  !!!!টক-শো জন্য যদি নোবেল প্রাইজের ব্যাবস্থা থাকব তাহলে মনে হয় এই বৈশাখী টিভিই পেত !!!!!!!!! কিছুক্ষন কেমেডি টক-শো দেখে উঠে চলে গেলাম। আম্মুকে বললাম অনুষ্ঠান শুরু হলে যেন আমাকে ডাক দেয়। অপেক্ষা………….. অপেক্ষা……. বিকাল তিনটার অনুষ্ঠান শুরু হল রাত ৭টায়। আজব !!!!!!!! আগে বাবার তোর তো জানতি অনুষ্ঠান শুরু হবে ৭টায় তো সবাই কে কেন বললি তিনটা থেকে অনুষ্ঠান শুরু হবে। ফাজলামোর একটা সীমা থাকে !!! ২৫০০০ টাকা নেত্তয়ার সময় তো ঠিকই নিবা।…… শাহরুখ বলতে আমি পাগল এটা আমার বাসায় সবাই জানে। মাঝে মাঝে আমি যখন শাহরুখের মুভি গুলো পুনরায় দেখি তখন ভাইয়া বলে এই এক মুভি কতবার দেখতে ভাল লাগে।বিশেষ করে যখন কুচ কুছ হোতা হে মুভি টা দেখি তখন। ভাইয়ার মনে হয় এই মুভিটা পছন্দের না। অনুষ্ঠান যখন দেখা শুরু করলাম প্রথশে স্টেজ দেখে তো আমার মেজাজ পুরা খারাপ হয়ে গেল । আরে এটা কি কোন স্টেজ হতে পারে এত ফালতু একটা স্টেজ । আর লাইটিং এর কথা কি বলব। যারা অনুষ্ঠানটি দেখেছেন তারা ঠিকই বুঝতেপারবেণ। কি বাজে ছিল লাইটিং সিস্টেমটা। আর ক্যামেরা ধরা গুলো আমার কাছে খুব ভাল লাগেনি। যদি একই অনুষ্ঠান চ্যালেন আই কিংবা এনটিভি করত আমার মনে হয় আরত্ত সুন্দর হত। আর কিছু না হউক ক্যামেরা পজিশন গুলো এমন ফালতু মনে হত না। এবার আসি অনুষ্ঠান নিয়ে কিছু কথা। শাহরুখের উপষ্তাপনা অনেক সুন্দর হয়েছে তা আর বলালা অপেক্ষা রাখে না।কিন্তু সব কিছু সুন্দর হয়নি। শহরুখের কিছু কথা আমার ভাল লাগে নি।আর ত্তদের উচিত ছিল ড্রেস আপটা একটা ঠিক রাখা । কারন এটা বলিউডের কোন অনুষ্ঠান না। এটা বাংলাদেশে হচ্ছে। ড্রেস গুলো একটু বড় বড় পড়লে কি হত??? কিছু কিছু গানে ড্রেস আপ এমন ছিল যে ফ্যামিলিল অন্য সদস্যদের নিয়ে দেখাই যায় না। সবাই তো টিভির সামনে বাব-মা ভাইয়া।ভাইয়া কোন সমস্যাটা সমস্যা হল বাবা।বাবার তো বলা শুরু করল এই চ্যালেন পরিবর্তন কর। এর জন্য মানুষ ২৫০০০ টাকা দিয়ে গেছে !!! নানা ব্লগে দেখেছি এই নিয়ে নানা লেখা লিখেছে। অনেকতো শহরুখ শালা বলাতে অনেক অভিমান করছে। বলছে আমার টাকা দিয়ে অনুষ্ঠান দেখব আবার গালিত্ত শুনব। আরে আপনাদের কে বলছি।– “আপনারা কি ফান বুঝেন?? ” অনেকে তো এই কনসাটের বিপক্ষে নানা কথা বলছে।“যে দেশে মানুষ খাত্তয়া পায় না এই দেখে মানুষের এই সব করা উচিত না আমাদের দেশে সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে গেল। বিজয়ের মাসে এই সব কি হচ্ছে।আমাদের দেশের শিল্পীরা দেখানে ভাত পায় না এখনে এই ধরনের অনুষ্ঠান করা । এতটাকা নষ্ট করা উচিত না। ” কি হবে আমাদের এই চিৎকার করে ? আমরা কি কিছু করতে পারব। আর যারা বলছে দেশের অর্থ পাচার হচ্ছে এই অনুষ্ঠানের মধ্যমে তারা সবচেয়ে বড় দুনীতি বাজ নিজেরা কোটি কোটি টাকা দুনীতি করে নিজের পকেটে ঢুকায় তো টাকা পাচার হয় না। টাকাটা দেশে থাকে। তাই না?? আজব লাগে। শাহরুখরা আমাদের দেশে এসেছে। একদিন থেকে চলে যাবে।ত্তরা যেন আমাদের এই দেশ সম্পকে খারাপ ধারনা নিয়ে না যায়। এটাই আমার কাম্য।দেশের সম্মান যেন রক্ষা পায়।

রেড়িত্ত আমার ৮৮.৪

কাল{২৭.১১.১০} গিয়েছিলাম রেড়িত্ত আমার ৮৮.৪ ষ্টেশনে। আমার সাথে আমার কয়েকজন বন্ধু ছিল। আমাদের যাত্তয়ার কারন হল লাভ গুরু {rj  রাজিব} উনার অনুষ্ঠানে কেন আসে না।লাভগুরু নামে একটা অনুষ্ঠান হয় রেডিত্ত আমারে এই অনুষ্ঠানটি প্রথম প্রথম ভালই লাগত। খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপনা করত। ভাল লাগত আমার। কিছুদিন লাভগুরুকে আর শুনা যাচ্ছৈ না।তই আমরা ক্লাসের ফাকে প্যান করলাম অফিস গিয়ে দেখি কারনটা কি? তো যাথারীতি গুলশানের সিলভার টাত্তয়ারের লেভেল ১২ এ গেলাম। মুন্না ভাই ছবিতে দেখিছি রেডিত্ত ষ্টেশনগুলো কত সুন্দর হয়। আমিত্ত প্রথমে ভেবেছিলাম হয়ত্ত রেডিত্ত আমরা ত্ত সে রকম না হউক কিছুটা কাছাকাছি হবে। কিন্তু ঘটনা ঘটল আমার চিন্তার ঠিক উল্টা। প্রথমে দরজা খুলে প্রবেশ করলাম। কিন্তু কোন রিশিপশনের কাউতে দেখলাম না। সামনে কিছু চেয়ার তা ত্ত ভাঙ্গা , কিছু কারর্পেট পড়ে আছে। কিছুক্ষন পর একজন দারোয়ান আসল। বলল কি চান?  তখন আমার এক বন্ধু বলল আপনাকে না। রিশিপশনের লোক কোথায়? কোন লোক নেই । মানে?? আমি লোক  বলেন কি বলবেন? আচ্ছা লাভগুরু এখনে কেন অনুষ্ঠান করে না? উনি ছেড়ে দিয়েছে। কেন??? আমি তো জানি না। আমি বললাম , এখন কোন আর জে  আছে তার সাথে আমরা একটু দেখা করতে চাচ্ছি। আজ না। আমাদের এমডি স্যার এসছে তো ঠিক তখনই একজন সুন্দরী নারী সুন্দরী বলল ভুল হবে।সুন্দরী সাজার চেষ্টা করছে আর কি !! সারা মুখে সাদা পাত্তডার দিয়ে ফর্রসা  সাজার সফর চেষ্টা প্রবেশ করল। দারোয়ান কি সুন্দর করে সেই নারীটিকে আপ্যায়ন করল।ম্যাডার বসেন। ভাঙ্গা চেয়ারটা এগিয়ে দিল। দারোয়ানটি আবার আমাদের কাছে গিয়ে আসল। আমি বললাম, আমার কবে আসলে দেখা করতে পারব? সে কোন দিন ।  আচ্ছা আমাদের কি আপনার পছন্দ হয়নি?{ মেয়েটিকে এত সুন্দর ভাবে বসতে বললেন আর আমাদের তা ত্ত করলেন না} দারোয়ান হেসে বলে , না তা কেন?? আচ্ছা আপনাদের এমডির নাম কি? সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর  মানে সাকা ছৌধুরী??? একজন রাজাকার!!!{রাজাকার শব্দটা আমার মনে মনে বলি!!! এই তথ্যটা আমি আগে জানতাম না। আমি আর কিছু বললাম না। বাহিরে চলে আসলাম। কিছুক্ষন পর আমার বন্ধুরাত্ত আসল।ত্তর বলল কিরে তুই এমন করে বাহিরে আসলি কেন? এটা একটা রাজারকের রেডিত্ত ষ্টেশণ আমি আগে জানতাম না !!!!!!!!! কিছু কথা-“ লাভগুরু এই ষ্টেশন ছেড়ে দিয়েছে এটা শুনে এখন আমার ভাল লাগছে।এই রকম একটা রাজাকারের আন্ডারে কাজ না করা অনেক ভাল। লাভগুরুর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি কিন্তু তা পারিনি । ব্যাক্তি হিসেবে পার্সনাল  লাইফে ত্তনি কেমন তা জানি না। তবে উনার কথা এবং অনুভূতির কথাগুলো শুনে মনে হয় খুব খারাপ হবে না। ত্তনার জন্য রইল শুভ কামনা।

*** এটি ছিল আমার মূল লেখাটা। পরে স্যামুতে প্রকাশিত হত্তয়ার পার কিছু নতুন তথ্য পেলাম। দারোয়ান আমাদের বলতে ভুল করছে না হয় আমি শুনতে ভুল করেছি। মনে হয় আমিই শুনতে ভুল করেছি। আসলে এটার মালিক সাকা চৌধুরীর নয়। এই রেডিওটিতে তার ভাই গিয়াস কাদের চৌধুরীর শেয়ার আছে। ম্যানেজিং ডিরেক্টর সে নিজে।*********

তাহাদের জন্য কি ঈদ নয় !! ??

ঘটনাটা খুব বেশি সময় আগের না। মাএ এক ঘন্টার আগে।
কিছুক্ষন আগে দেখলাম একটা বৃদ্ধ একটা পুরানো কাথা দিয়ে খড়ের উপর শুয়ে ঘুমিয়ে আছে। আর রোডের পাশ দিয়েই অনেক গরু নিয়ে যাত্তয়া হচ্ছে অনেক গরু ত্তয়ালা এই লোকটাকে উদ্দেশ্য করে বলে “আর ঘুমানোর জায়গা পায় না।
লোকটা দেখে আমার ভীষন মায়া হয়। ইচ্ছা করছিল কাছে গিয়ে জানতে চাই। লোকটা এখানে কেন ?কেই কি নেই।কিন্তু নানা সংকোচে আর গেলা…ম না।এই রকম ছন্ন ছাড়া মানুষ দেখলে আমার কেন যেন ভীষন খারাপ লাগে।
ঈদ কি এদের মত মানুষের জন্য না.?
এই প্রশ্ন আমি কাকে করব। শুনার মত অনেক লোক আছে। এবং অনেক উত্তর তাদের সাজানো সাথে। যা কিনা যুক্তিপূর্ন। অনেক হয়ত বলবে একটা দেশে গরীব ধনী সব থাকবে এটা নিয়ম। আল্লাহল সৃষ্টি থেকে তা চলে আসছে। একদল শাসক আর এক দল  শ্রমিক । আমি কঠিন কোন যুক্তি পারি না। আমার মাথায় যা আসে যা আমার খারাপ লাগে বা ভাল লাগে তাই ব্লগে লিখি।  এই বৃদ্ধটি কিন্তু পাগল না। পাগল হলে বোঝা যায় কে পাগল। তখন আমার মনে হল এমন তো অনেক আছে আমাদের দেশে । আমরা কি জানি এদের খরব। রেল , বাস ষ্টেশন গুলোতে কিংবা অনেক রাস্তার পাশে এই ছন্নছাড়া মানুষদের দেখা যায়। তাদের কাচে ঈদ আর সাধারন দিন গুলো একই কোন রকম পাথক্য নেই। যেখানে আমাদের দেশে মানুষ থাকার জন্য ঘর পায় না সেখানে সাধারন একটা খেলায় জেতার জন্য খেলোয়ারদের গাড়ি বাড়ি দেত্তয়া হয়। সরকার কি পারত না এই টাকা গুলো দিয়ে এই ছন্নছাড়া মানুষগুলোকে আবাসন করতে । মানি সবাইকে করা সম্ভব না। তবুত্ত কিছু মানুষকে তো পারত। থিক্কার জানাই এই সব বিলসীলতাকে। খুব খারাপ লাগল সরকারেই এই ঘটনাটি দেখে। আমি কোন দলীয় দিক থেকে বলছি না। আমি নিজে কোন রাজনীতি দল করি না। কোন দলকেই আমি পছন্দ করি না।  কিন্তু কিছু কিচু ব্যাপার থাকে যা কিনা আমার কাছে একধুম অনেক খারাপ লাগে ।

খারাপ লাগলে কি আমি কি করতে পারব ? না পারব না। কিংবা কেউ কিছু করতে পারে আমার মত যারা সাধারন মাণুষ। না পারবে না। আমার শুধু বসে বসে আমাদের  শোষন করা দেখব সেই আদি কাল থেকে । সে দেশে একজন রাজাকার সরকারের সবচ্চো চাকুরী লাভ করতে পারে আর একজন মুক্তিযোদ্ধা রিকশা চালিয়ে জীবিকা নিবাহ করে।সেখানে তো এই ধরনের অমানবিক ঘটনা ব্যাপার না। এই ঘটনাগুরো দেখতে দেখতে আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে। এখন যেন অমানবিক ঘটনাগুলো আমাদের কাছে মানবিক বলে মনে হয়। এগুলো না ঘটলে যেন আমাদের সমাজ পরিপূন লাভ পায় না !!!!

অনেক বকবক করলাম। যে বিষয় নিয়ে লিখতে চেয়েছিলাম লাইন ব্রেক করছে আমার এই লিখা। এই লিখাগুলো কোন মূল্য নেই। মুখে শুধু আমি না সবাই অনেক নীতি কথা বলি কিন্তু কাজে আসলে কিছুই না । মুখে ঠনঠন করে । আমি হয়তবা তাই। কিন্তু এই কথা গুলো আমার বলতে ইচ্ছা করে দেশের সকল রাজনীতিবীদের কে? সকল শোষত মানুষদের । যারা কি না সুকৌশলে আমাদেরকে শোষন করে যাচ্ছে। আমার মত একজন ক্ষুদ্র মানুষের প্রশ্ন তাদের শুনার সময় নেই। তারা সবাই ব্যাস্ত তাদের কাজে {!}  ।

তবুত্ত বলতে চাই”

“ঈদের শুধু আমাদের জন্য নহে তাহাদের জন্য ত্ত যেন ঈদ হয়”

সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছে

বিশেষ করে তাদের কে যারা ঈদ কি জানে না। ঈদ আর সাধারন দিন গুলো যাদের কাছে একই।

তাহাদের জন্য রইল ঈদের শুভেচ্ছা

i hate luv story এবং অন্যান্য

আমি মুভি খুব দেখি। দেখতে ভাল লাগে। বাংলা ছবি খুব একটা দেখি না। ইংশিল আর হিন্দি মুভি বেশি দেখি।

কিছু দিন আগে আমি I hate luv story মুভি টা দেখলাম।

মুভিটা দেখে আমি চরম হতাশ হলাম। যেমনটা ভেবেছিলাম আসলে মুভি না কেমন হল না। গানগুলো যদিত্ত আমার ভাল লেখেছে। মুভি কাহীনিটা আমার কাছে পুরোই ফালতু মনে হয়েছে। আমি যে কোন ছবি দেখার পর কিছু সময় ভাবি এই মুভি থেকে আসলে কি আমি কিছু শিখতে পারলাম। প্রতিটি ছবি মত করে এই মুভিটা দেখা শেষ করে ভাবতে থাকলাম । আদৌ আমি কি কিছু শিখতে পেরছি? কিন্তু আমি দেখেছি কিছু কিছু মেযের কাছে এই মুভি টা অনেক ভাল লেগেছে। আমার কাজিন তো বলল “এই মুভি টা নাকি তার জীবনে দেখা সবচেয়ে ভাল মুভির মধ্যে একটা” এখন প্রশ্ন হল কি ধরনের মুভি সে দেখে। সারাদিন হিন্দি সিরিয়াল নিয়ে পড়ে থাকতে দেখি তাকে। যতদিন আমার কাজিনের বাসায় গেছি ততোদিন দেখছি সনি, ষ্টার প্লাস এই বিরক্তর সিরিয়াল দেখছে।

এই ধরনে মুভি গুলো আমাদের সমাজে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে পরকীয়ার মত ব্যাপার গুলো । এই ছবিতে ত্ত একধরনের পরকীয়ার চিএ তুলে ধরেছেন। কেমন করে পরকীয় করতে হয় তা যেন শিক্ষা দিচ্ছে এই ধরনের মুভিগুলো । আমরা মুভি দেখি ঠিক আছে। কিন্তু আমাদের সমাজের টিনএজের ছেলেমেয়েরা এই ধরনের মুভিগুলো দেখে এই চরিএ গুলোর মত হতে চায়। সে এমন করেছে, তার চুলে টাইল এমন, সে এমন করে কথা বলে , ত্ত দুটা প্রেম করেছে, সে রোমান্টিক, এই নায়ক মেয়েদের কে এমন করে পটায় ….!!!! ইত্যাদি …………

আমি বলতে শুনিছি অনেকে বলে “বাসনে এ হাছিনা” মুভি রানবীন তিনটা প্রেম করছে আমি করলে কি ক্ষতি। আমিত্ত এমন করব ।!!!{ আরে গাধা লাইফ আর মুভি কি এক জিনিস। } বিশেষ করে যার টিনএজ আমাদের মত তরুন এই ধরনের বিশেষ শ্রেনীর ছেলেদের মুখে এই ধরনের কথা শুনা যায়।কিন্তু কেন???

খারাপ জিনিস গুলো প্রতি আমার মনে হয় বেশি আকস্তি হই। নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি সবাই আগ্রহ বেশি।এটাই বাস্তব।

একটা ঘটনা মনে পড়ল। ঘটনাটা তিন –চার বছর আগের।

“আমাদের ক্লাসের একটা মেয়ে একটা ছেলে খুব পছন্দ করত।ছেলেটার সাথে মেয়েটার বেশ কিছুদিন রিলেশন ছিল। পরে মেয়েটা জানতে পারে ছেলেটার আর একটা মেয়ের সাথে রিলেশন আছে। তার সাথে ছেলেটা ফান করেছে বন্ধুদের সাথে মজা করে। শুনে মেয়েটা কান্নাকাটি করে আবস্থা খারাপ। শেষ পযন্ত মেয়েটা ডিসিশন নিল মারা যাবে। আত্নহত্যা করবে।

আমি ঘটনাটা জানতে পেরে মেয়েটির কাছে গিয়ে জানতে চাই আত্নহত্যার বুদ্ধিটা তোমায় পেল। উত্তরটা শুনে আমি অবাক।

“ মোহাব্বতিন” ছবিতে শাহরুখকে না পেয়ে বিশ্ব সুন্দরী মিসেস বচ্চন আত্নহত্যা করে । বধূ সেজে।কপালে সিদুর দিয়ে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে। এই দৃশ্যটির মত করে নাকি মেয়েটি আত্নহত্যা করবে। ত্ত মুসলমান বলে কপালে সিদূরের জায়গায় টিপ থাকবে।“

আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম। কেমন করে একজন মানুষ ছবির ঘটনা গুলো নিজের লাইফে ছড়িয়ে ফেলে। হ্যা এটা মানি মুভি কিছু ঘটনা কাকতালীয় ভাবে মিলে যায় তাই বলে এমন করা কি উচিত আমার । ছবি মত করে কি জীবনের সমাধান হয়। যদি আজ ছবিগুলোতে আমাদের মূ্ল্যবোধের এতটুকু হলেত্ত শিক্ষা দিত তবে আমি বলতাম মুভি গুলো বানানো সফল হয়েছে।

আমার সেই ক্লাসমেটকে আমি কিছু না বলে চলে আসি। আমি জানি মেয়েটা অনেক আবেগ প্রবন কিন্তু এটা জানি সে আত্নহত্যা করবে না। কারন যখনই আত্নহত্যা করতে যাবে তখণ অন্য একটা মুভি সাথে নিজের কাহীনিটা মিলাবে এবং এই পথ থেকে সরে আসবে।

এই ধরনের কাজ সাধারনত মেয়েরা বেশি করে । কিন্তু বর্তমানে ছেলেত্তরা পিছিয়ে নেই।

শেষ পযন্ত আমার ক্লসমেট মেয়েটি মারা যায়নি। দিব্যা সুন্দর বেচে। আছে। শুনিছি এখণ নাকি কয়েকটা ছেলের সাথে ঘুরাঘুরি করেতে দেখা যায় পথে -ঘাটে। এটা মনে হয় কোন মুভি এর অংশ…..!!!!!

আমি কখনো এটা বলছি না মুভি দেখা খারাপ। “ ফুলে মধু থাকে আবার বিষ থাকে। ভোমর নেয় বিষ আর মৌমাছি নেয় মধু “ আমাদেরকে তা হতে হবে। ভাল –খারাপ দুটাই আমরা দেখব । কিন্তু খারাপ গুলো ফেলে দিয়ে ভাল বিষয় গুলো নিলেই হয়। কিন্তু আমার কখনো তা করব না। বেছে বেছে খারাপ বিষয় গুলো আমাদের মাথা ঢুকে। একটা মুভিতে কিছু ঘটনা ভাল থাকে আবার কিছু থাকে খারাপ । আমাদের উচিত একটু শিক্ষার দৃষ্টিতে মুভিগুলো দেখা এবং কখনো এগুলোকে নিজের জীবনের সাথে না না জরানো। জীবনে জীবন আর মুভি মুভিই……….।

কিন্তু এখন সমাজের তরুন তরুনী এবং টিনএজদের কে বুঝাবে এটা।সিরিয়ার আর মুভি গুলো এমন করে মাথা ঢুকে তা যেন বের হতেই চায় না।

অনেক উপদেশ মূলক কথা বলে ফেললাম।আর না। আরত্ত কিছু কাহীনি লিখতে ইচ্ছা করছে কিন্তু সময় না থাকায় লিখতে পারছি না। পড়ে সময় করে লিখব আসলে উপদেশ দিতে খুব একটা খারাপ লাগে না। {!!!!!!}

এগুলো আমি মুভিটা দেখার পর ভাবলাম। আমার ভাবনা গুলো আমি তুলে ধরলাম। পুরোপুরি সুন্দর ভাবে তুলে ধরতে পারিনি। যখন ভাবি তখন অনেক সুন্দর করে ভাবি । কিন্তু লিখার সময় যেন এলোমেলো হয়ে যায়।

এই এলোমেলো লেখাগুলো কার কেমন লাগবে জানি না । তবুত্ত কষ্ট করে পড়ার জণ্য ধন্যবাদ।

ঈদের আনন্দে এরা কি হাসতে পারবে….!!

কিছু দিন আগে বন্ধুদের সাথে বসে আছে মাঠের মধ্যে । দেখলাম কিছুদূরে কিছু টোকাই কাগজ কুড়াচ্ছে। টোকাই ছেলেদের ব্য়স ৬-৪ হবে। একটা ছোট ছেলে বয়েছে।পাঁচ জনের একটা টিম। সবাই গভীর মনোযোগ দিয়ে কাগজ কুড়াচ্ছে।আমি তাকিয়ে আছি এদের দিকে । আর ভাবছি তাদের জীবনের সংগ্রামের কথা। কতই না কষ্ট করে এরা । ওদের সাথে কথা বলতে ইচ্ছা হল। ডাক দিলাম “এই শোন”
এক এক করে সবাই এলো।

এদের সবার সাথে একটা ছবি তুললাম
[পিছনে দাড়িয়ে থাকে সবচেয়ে কালো ছেলেটির নাম জুয়েল}
জানতে চাইলাম তাদের নাম । এক এক করে বলল সবাই নাম। সবার বড়টা নাম জুয়েল, রানা আর বাকি গুলোর নাম মনে নেই।
জুয়েলের কাছে জানতে চাইলাম তার বাড়িতে কে কে আছে?
আমি , আমার মা , আব্বা,আর একডা ভাই
তোমার বাবা কি করে?
বাবা বরিশালে থাহে……নতুন একটা বিয়া করছে।
তোমার মা?
বাসায় কাজ করে।
তুমি কি স্কুলে পড়াশুনা করেছ?
কেলাশ টু পযন্ত পড়ছিলাম।
এখন কি কর?
কাগজ টুকাই
প্রতিদিন কাগজ টুকাইয়া কত টাকা পায়?
৫০-৬০ টেহা
তোমার চোখ লাল কেন?
ডেন্টি কিংবা সিগেরেট খাও না কি?
ডেন্টি খাই না তয় সিগেরেট খাই।
হুমমম
কবে থেকে খাও?
তিন চার বছর আগে থাইকা…
সিগেরেট খাওয়া কি ভাল?
জুয়েল কিছুক্ষন চুপ করে থেকে তারপর বলল-
আপনার এই বন্ধুরা যে খাচ্ছে?
আমি তাকিয়ে দেখলাম আমার দুটা বন্ধু সিগেরেট ধরিয়েছে।আমি চুপ হয়ে গেলাম । আর একটা প্রশ্ন ও করতে পারলাম না । এই ব্যাপারে। কি উপদেশ দিব । এখন আমি কি বলতে পারব আর সিগেরেট খাইও না । ভাল না।………আমার নিজের বন্ধুরা খাচ্ছে। আমার কিছুই করার নেই। আমি এই সিগেরেটটা কে অনেক ঘৃনা করি। কিন্তু কিছু বন্ধু খায়। ওদের আমি বলেছি অনেক বার কিন্তু কোন লাভ হয়নি। এখন আর কিছু বলি না। যা ইচ্ছা কর…………..!!!!

প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে আমি বললাম ঈদে এবার কি করবা?
ছেলেটা আবার চুপ হয়ে গেল । মনে মনে ভাবলাম না জানি এবার কি বলে।
আমগোর আবার ঈদ তয় এবার একটা শাট কিনুম। ৭০ টাকা জামাছি। আর ঈদের দিন বোতল টোকাইবো এইদিন বেশি বোতল পাওয়া যাইব…….
আমার সবাই ঈদের দিন ঘুরব মাজা করব আর ওরা……??!! ঈদের দিন এরকম কত টোকাই দেখব আমরা পথের মাঝে । আমাদের কাছে হাত পা পাতবে….আমরা কেউ যেন তাদের না ফিরিয়ে দেই………..একটু হলে ও তাদের দিকে ফিরে তাকাই

একদিন হয়ত আমি নিজে ত্ত হারিয়ে যাব এই স্রোতে…{বিশ্ব বন্ধু দিবসের আমার চিন্তা..}

আজ রাস্তায় বের হলে কিংবা tsc এবং বিভিন্ন পার্ক এ গেলে দেখা যাবে আজ তরুন –তরুনীদের ভীড়……….
আমার কাছে ব্যাপারটা নিছক ফালতু একটা ব্যাপার মনে হয়। হা আমি মানি বন্ধুরা আমার জীবনে অনেক কিছু করে । কাউত্ত উপকার কা্উর আপকার.। যদি দিনটি শুধু বন্ধুদের জন্য থাকত তাহলে একটা কথা ছিল কিন্তু বর্তমান সমজে এই দিনটিকে বিশ্বভালবাসা দিবসের মত করে পালন করা হয়।এই সব পাগলামো আমার ভাল লাগে না। নিজের পকেটে টাকা না থাকলে এই সব পানসে মনে হয় এটা সত্যি কথা। আর আমাদের সমাজের বর্তমান তরূনীদের কথা আর না বললেই হয় । সবাই তা জানা আছে। তাই বলে আমি সব মেয়েকে দোষ দিচ্ছি না । কিছু কিছু তরুনীকে বলছি। যারা কিনা ছেলেদের সাথে মজা করে সময় পাশ করে এবং ছেলেদের টাকা নষ্ট করে আনন্দ পায়। এরকম ঘটনা অনেক রয়েছে। আমার কেন যেন মনে হয় আমাদের দেশে যত ছেলে মদকাসক্ত তার প্রধান কারন এই মেয়েরা । তাই বলে আমি বলছি না ছেলেত্ত সাধু । ছেলেদের ত্ত দোষ আছে । কেন তারা অন্ধ ভালবাসায় লিপ্ত হবে। যে- বাবা-মা এত কষ্ট করে পালন লালন করে তাদের কি কোন মূল্য নেই…….??? বাবা-মার চেয়ে একটা মেয়েই কি খুব বেশি প্রয়োজন ? যদি তা হয় তাহলে এই ধরণের ছেলেদের পৃথীবিতে বেচেঁ থাকার কোন দরকার নাই । তাদের বেচেঁ থাকা আর একটি অপদাথের বেচেঁ থাকা একই কথা। আমার এক দুর সম্পকের আত্নীয় হবে এক ভাই একটি মেয়ে পছন্দ করত। কিন্তু মেয়েটি ভাল ছিল না। বাবা মা অনেক বুঝিয়ে কিন্তু ভাই কিছু শুনল না। মা-বাবার সাথে রাগ করে ঝগড়া করে মেয়েকে বিয়ে করে আগে। ত্তনি বাবা- মা কে একটি কথাই বলেছিল “ আগে আমার ভালবাসা। তারপর তোমরা” {বাংলা ছবির ডায়ালক আর কি !!!} । কিন্তু কিছুদিন পর জানতে পারে মেয়েটির আগে একটি বিয়ে হয়েছিল। এবং মেয়েটির আগের স্বামী {ভালবাসার মানুষ- লুকিয়ে কাজী অফিসে বিয়ে করেছিল} ফিরে আসায় মেয়েটি আগে স্বামীর কাছে ফিরে আসে। আর আমার সেই ভাইটি মনের কষ্টে নেশা শুরু করে । এখন ্আমার জানা মত মেয়েটি সুখেই আছে। একটি সন্তান হয়েছে মেয়েটি। আর আমার আমার সেই ভাইটি ণেশা করে বেচেঁ আছে………………এটা কি বেচেঁ থাকা।
• বাবা-মার কাথা না শুনলে এমনই হয় ।

আমার ভাবতে কষ্ট হয় ছেলে –মেয়ে কেন বাবা- মা এমন করে কষ্ট দেয়। সবাই হয়তো বলতে পারেন তুসিন ভাই আপনি প্রেমে পরেননি তো তাই এমন নীতিবান কথা বলছেন। সবাই এমন কথা বলতে পারে কিন্তু কাজে কেউ পারে না। যদি কাউত্ত এমন কথা মনে হয়ে থাকে তাহলে তাদের বলছি “মানুষের জীবনে সবই এই সব আসতে পারে তাই বলে মরীচিকার মত ঘুরে বেড়ানো কি আমাদের উচিত আমাদের কি একটু বাস্তবাতা চিন্তা করা উচিত না। “ আমি যে কোন কাজ করার আগে তিন দিক থেকে ঘটনাটা দেখি
প্র্রথমে দেখি মা –বাবা ব্যাপারটা কেমন করে দেখবে, তারপর দেখি সমাজ কেমন করে দেখবে, তারপর দেখি আমার নিজে বিবেক দিয়ে
তারপর যেটা ভাল মনে হয় সেই কাজটা করি। তাহলে কোন সমস্যা হয় না। আমি আর একটা কথা সব সময় মনে রাখি যে আমাদের মন যা বলে তা করা উচিত না বিবেক যা বলে তা করা উচিত।
আজ এই দিনটা একটা উৎসব মুখরদিন তা আমি মানি। কিন্তু যারা এই দিনে পরিবেশ নষ্ট করছে তাদের প্রতি রইল আমার ঘৃনা । তাদের উপদেশ দিলে লাভ নেই । তারা শুনবে না। আমাকে বলবে আমি আধুনিক না,আমি ক্ষেত ইত্যাদি। এই সব নোংরা কাজকে নি আধুনিকা বলে আমার তা জানা নেই………..নোংরা কাজ বলতে আমি বুঝাতে চেয়েছি তা সবাই বুঝতে পারছেন আশা করি। এই আবুঝ তরুন সমাজকে কে বুঝাবে। আমারা গুটি কয়েক মানুষ শুধু বলতে পারব । কিন্তু কাউর মাথায় বিবেক ঢুকিয়ে দিতে পারব না।
অনেক নীতিবান কথা বলেফেলাম………..আগে কখনো এমন করে লিখিনি। মনে যা এসেছে তা লিখিছি………
আর একটা কথা আমার কেন যেন মনে হয় আমাদের এই সমাজ আর মুক্তি পাবে না। আর অবনতির দিকে যাবে বিশেষ করে আমার মত এই তরুন সমাজরা। আমি বসে বসে দেখব আমার ।অনেক বন্ধু ত্ত কোন বড় ভাই …….একদিন হয়ত আমি নিজে ত্ত হারিয়ে যাব এই স্রোতে………………………………………………………………

h.s.c পরীক্ষার ফলাফল দিবে !!!! …জাফর স্যারের একটি কলাম….{ যদি ত্ত এটি s.s.c পরীক্ষার সময় স্যার লিখেছিল}

h.s.c  পরীক্ষা নিয়ে আমার বেশ কিছু কথা লিখতে ইচ্ছা করছে । কিন্তু সে রমক সময় না থাকায় লিখথে পারছি না.। শুধু সবাই কাছে আমার একটা অনুরোধ অকৃর্তকাযদের ঘৃর্নার চোখ দেখবেন না….তাদের পাশে একটু দাড়ান……তাদের সমবেদনার দরকার নেই ……..শুধু অবহেলা করবে না।

এখানে হুবহু কপি করে তুলে দিচ্ছি।

আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যাপারটি হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। আমি আমার জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ভুলে বসে আছি, কিন্তু এসএসসি পরীক্ষার দিনগুলোর কথা এখনো ভুলিনি! পরীক্ষা না যেটুকু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সব খবরের কাগজে হাস্যোজ্জ্বল ছেলেমেয়েদের ছবি ছাপা হবে, তারা একজন আরেকজনকে জড়াজড়ি করে ধরে, দুই আঙুল দিয়ে ‘ভি’ তৈরি করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে—দেখেই আমাদের মন ভালো হয়ে যায়। ছেলেমেয়েদের হাসিগুলো আমাদের মুখে ফুটে ওঠে, মনে হয়, তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে একটু আদর করে দিয়ে আসি।

যেদিন এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়, তার পরদিন খবরের কাগজটির পৃষ্ঠা ওল্টানোর সময় আমার বুক দুরু দুরু করতে থাকে। প্রথম পৃষ্ঠায় ছেলেমেয়েদের হাস্যোজ্জ্বল মুখের ছবির পাশাপাশি আরও একটি ব্যাপার ঘটে, সেটি হচ্ছে আশাভঙ্গের বেদনা। সেই খবরগুলো খবরের কাগজে আসে না, আমরা তাই জানতে পারি না। আশাভঙ্গের কারণে কোনো ছেলে বা মেয়ে যখন ভয়ানক কিছু করে ফেলে, তখন সেটি খবরের কাগজে চলে আসে, সেগুলো দেখে আমার বুক ভেঙে যেতে চায়, নিজেদের অপরাধী মনে হয়। বেশ কয়েক বছর আগে খবরের কাগজে ফুটফুটে একটি মেয়ের ছবি দিয়ে তার বাবা-মায়েরা একটা বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে ছিলেন। এসএসসির রেজাল্ট হওয়ার পর মেয়েটি মন খারাপ করে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে, বাবা-মা কাতর-কণ্ঠে সেই মেয়েটিকে বাড়ি ফিরে আসার জন্য অনুনয় করছেন। বিজ্ঞাপনটি কেটে সেটি আমি অনেক দিন পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি, মাঝেমধ্যে মনে হয়েছে, ফোন করে বাবা-মাকে জিজ্ঞেস করি মেয়েটি ফিরে এসেছে কি না। শেষ পর্যন্ত সাহস করে ফোন করতে পারিনি, যদি শুনি তাঁরা বলেন মেয়েটি আর ফিরে আসেনি, চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেছে, তখন আমি কী করব।

কখনো কখনো আরও ভয়ংকর ব্যাপার ঘটে, পরীক্ষার রেজাল্ট হওয়ার পর একটি ছেলে বা মেয়ে আশাহত হয়ে আত্মহত্যা করে ফেলে। কী সর্বনাশ! আমি তখন নিঃশ্বাস বন্ধ করে সেই খবরটির দিকে তাকিয়ে থাকি, নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারি না। এবার এসএসসি পরীক্ষা চলার সময় হঠাৎ আমার কাছে একটি এসএমএস এসেছে, সেখানে লেখা পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্ন কঠিন হয়েছে, পরীক্ষা খারাপ হওয়ার জন্য একজন আত্মহত্যা করেছে।

সবার নিশ্চয়ই মনে আছে, মাঝখানে একটা সময় গেছে যখন প্রতিদিনই কেউ না কেউ আত্মহত্যা করছে—সবাই কম বয়সী মেয়ে। বাবা-মা বৈশাখী মেলায় নিয়ে যাননি বলে আত্মহত্যা, মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে আত্মহত্যা, বখাটে ছেলে রাস্তায় টিটকারি দিয়েছে বলে আত্মহত্যা, ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে মন কষাকষি হয়েছে বলে আত্মহত্যা। আমরা প্রতিদিন খবরের কাগজ খুলে দেখি আর চমকে চমকে উঠি।

আমার কাছে বিষয়টা অনেক বেশি বেদনাদায়ক ছিল, কারণ ঠিক সেই সময় আমার একজন ছাত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শাওয়ারের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছিল। একেবারে ফার্স্ট ইয়ারের ফার্স্ট সেমিস্টারের বাচ্চা একটি মেয়ে। হাসিখুশি প্রাণোচ্ছল। নিজের হাতে নিজের জীবনটা নেওয়ার ৩০ মিনিট আগেও সে জানত না, এ রকম ভয়ংকর একটা কাণ্ড সে করে ফেলবে। গভীর রাতে টেলিফোনে খবর পেয়ে মেয়েদের হোস্টেলে গিয়ে আমার প্রিয় মেয়েটির প্রাণহীন নিথর দেহটিকে বাথরুমের শাওয়ারের সঙ্গে ঝুলতে থাকার দৃশ্যটি যে কী ভয়ংকর রকম হূদয়বিদারক, সেটি অন্য কেউ বুঝতে পারবে না। শুধু মনে হয়, আহা, মেয়েটি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে যাওয়ার আগে যদি শুধু একবার আমাকে ফোন করে বলত, স্যার আমার বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে, রাগে-দুঃখে-অপমানে আমার মরে যেতে ইচ্ছে করছে—তাহলে হয়তো আমি এই বাচ্চা মেয়েটিকে বলতে পারতাম, তোমার জীবন তোমার একার নয়। তোমার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তোমার আপনজনের জীবন—স্বার্থপরের মতো নিজের জীবনটুকু নিয়ে তোমার আপনজনকে তুমি কষ্ট দিতে পারো না! তাকে আমি আরও অনেক কিছু বলতে পারতাম, আগে আমার কাছে যখন লেখাপড়ার কথা বলতে এসেছে, তখন আমি তাকে যেভাবে উৎসাহ দিয়েছি, তার থেকে একশ গুণ বেশি উৎসাহ দিতে পারতাম। কিন্তু বাচ্চা মেয়েটি আমার সঙ্গে কথা বলেনি, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কথা বলেনি, বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেনি, মোবাইল ফোনটা হাতে নিয়ে বাথরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শাওয়ার থেকে ঝুলে পড়েছে।

আমি এখনো ক্লাস নেওয়ার সময় ভুল করে তার রোল নম্বর ডেকে ফেলি, তখন মনে পড়ে এই রোল নম্বর থেকে আমার ছাত্রীটি আর কখনো উত্তর দেবে না। একজন শিক্ষকের জীবনে এর চেয়ে দুঃখের ব্যাপার আর কিছু হতে পারে না।

২.
টিন-এজ বয়সটা খুব জটিল একটা সময়। আমরা সবাই সেই সময়টা পার হয়ে এসেছি এবং আমাদের সবারই নিশ্চয়ই সেই সময়টার কথা মনে আছে। পরিচিত পৃথিবীটা তখন অন্য রকম মনে হতো—তখন বুকের ভেতর থাকত তীব্র আবেগ। সহজ বিষয়টাকে মনে হয় জটিল, জটিল বিষয়টাকে মনে হয় দুর্বোধ্য। শরীরে নতুন নতুন হরমোন খেলা করতে শুরু করেছে, সেই হরমোন আমাদের চিন্তার জগৎকে পাল্টে দিচ্ছে। আমরা সবাই সেই জটিল সময়টা পার হয়ে আসতে পেরেছি, কারণ আমাদের চারপাশে থাকত পরিবারের আপনজন। মনের কথা বলার জন্য থাকত বন্ধুবান্ধব, কাজকর্মে ব্যস্ত থাকার জন্য থাকত লেখাপড়ার দায়িত্ব, শরীরের প্রাণশক্তি বের করার জন্য থাকত খেলার মাঠ। টিন-এজ সময়ের সেই জটিল মাইনফিল্ডে সাবধানে পা ফেলে ফেলে আমরা বের হয়ে এসেছি।

সবাই বের হতে পারে না, জটিল ধাঁধায় আটকা পড়ে যায়। সারা পৃথিবীর পরিসংখ্যান নিয়ে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যা করে টিন-এজ ছেলেমেয়েরা। আমাদের বাংলাদেশের কোনো পরিসংখ্যান আমি খুঁজে পাইনি, কিন্তু পৃথিবীর পরিসংখ্যান অনুযায়ী এটি হচ্ছে এই বয়সী ছেলেমেয়েদের অপমৃত্যুর বড় কারণগুলোর একটি। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে—এই বয়সী ছেলেমেয়েদের জীবনটাকে সহজ করার জন্য তাদের অনেক রকম পরিকল্পনা থাকে—আমাদের সে রকম কিছু নেই, আমরা শুধু কমন সেন্স দিয়ে এগুলো সমাধান করার চেষ্টা করি। আমি যখন বাংলাদেশে প্রথম এসে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছি, তখন একজন ছাত্রের খোঁজ পেলাম যে একাধিকবার ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। আমি তাকে ডেকে পাঠিয়েছি, তার সঙ্গে কথা বলেছি। সে তখন মাথা নিচু করে কাতর-কণ্ঠে বলেছে, ‘আমি জানি না স্যার, আমি কী করব, আমার মাঝেমধ্যেই আত্মহত্যা করার ইচ্ছে করে।’ আমি তাকে বলেছি, এর পরের বার যখনই ইচ্ছে করবে, আমার সঙ্গে দেখা করবে। ছাত্রটি মাঝেমধ্যেই আসত, অপরাধীর মতো বলত তার আত্মহত্যা করার ইচ্ছে করছে। আমি তখন তার সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলতাম, উৎসাহ দিতাম—জটিল একটা পৃথিবী যে আসলে সহজ, আনন্দময় একটা জীবন তাকে দেখিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতাম। শেষ পর্যন্ত ছাত্রটি লেখাপড়া শেষ করে বিদেশে স্থায়ী হয়েছে। ফুটফুটে একটা মেয়েকে বিয়ে করে সুখে ঘর-সংসার করছে।
আমি মনোবিশেষজ্ঞ নই, আমি শুধু কমন সেন্স দিয়ে বুঝতে পারি টিন-এজ বয়সের জটিল একটা সময় যদি একটু স্নেহ-মমতা দিয়ে পার করিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে পরের জীবনটা হয় অনেক সহজ।

সে জন্য এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট বের হওয়ার দিন আমার বুক ধুকপুক করতে থাকে। আমি জানি, এদিন যখন লাখ লাখ ছেলেমেয়ে সাফল্যের আনন্দে উদ্ভাসিত হবে, ঠিক তখন অসংখ্য ছেলেমেয়ে আশাভঙ্গের কষ্টে কাতর হবে। এদের সবাই যে নিজের কারণে এই আশাভঙ্গের বেদনাটুকু পাবে তা নয়—অনেক সময়ই সেটি হবে নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আমার সহকর্মীর একটি মেয়ে যখন পরীক্ষায় খুব ভালো একটা ফল আশা করছে, তখন আবিষ্কার করল সম্পূর্ণ বিচিত্র একটা কারণে খুব ভালো পরীক্ষা দেওয়া একটা বিষয়ে তাকে ফেল দেখাচ্ছে। আঘাতে মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে যায়—আমরা এ রকম কথাবার্তা শুনেছি, সেবার আমি নিজের চোখে দেখলাম। মেয়েটি শুধু যে বাকরুদ্ধ হয়ে গেল তা নয়, তার শরীরের সব অনুভূতিও থেমে গেল। ঘুমের ওষুধ দিয়েও তাকে ঘুম পাড়ানো যায় না, ভয়াবহ একটি অবস্থা। পরিবারের সবার স্নেহ-মমতা-ভালোবাসায় তাকে শেষ পর্যন্ত সুস্থ করে তোলা হয়েছিল। পরের বার পরীক্ষা দিয়ে চমৎকার রেজাল্ট করে এখন সে জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে।

সবাই আমার সহকর্মীর মেয়েটির মতো সৌভাগ্যবান নয় যে একটা দুর্ঘটনার পর সে গভীর ভালোবাসা এবং মমতায় সেখান থেকে বের হয়ে আসতে পারবে। অনেক সময়ই দেখা যায়, অভিভাবক বা আত্মীয়স্বজন আশ্চর্য রকম নিষ্ঠুর। একটি ছেলে বা মেয়ে পরীক্ষায় তার পছন্দের ফল না পেয়ে যখন গভীর আশাভঙ্গের বেদনায় কাতর হয়ে আছে, তখন তাকে তার চারপাশের মানুষ থেকে গালাগাল শুনতে হয়, অভিশাপ শুনতে হয়। টিন-এজ বয়সের সেই জটিল মনোজগতে এটি যে কী ভয়ংকর একটা ব্যাপার হতে পারে, সেটা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না। এই দেশের সব অভিভাবকের কাছে তাই আমার কাতর-অনুরোধ, এসএসসি পরীক্ষায় আপনার ছেলে বা মেয়ের ফল যদি আশানুরূপ না হয়, তাহলে তাদের ওপর রেগে উঠবেন না। তাদের সান্ত্বনা দিন, সাহস দিন, তাদের পাশে এসে দাঁড়ান।

৩.
আমাকে মাঝেমধ্যেই নানা রকম অনুষ্ঠানে যেতে হয়, সেই অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ অনুষ্ঠান হচ্ছে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। সেখানে কয়েক হাজার ছেলেমেয়ে থাকে এবং সবাই পুরস্কার পায়। সেখান থেকে কেউ মন খারাপ করে যায় না।

সব অনুষ্ঠান এত সুন্দর নয়—অনেক অনুষ্ঠানেই প্রতিযোগিতা হয় এবং প্রতিযোগিতা হলেই সেখানে হাতে গোনা কয়েকজন বিজয়ী থাকে। যারা বিজয়ী হতে পারে না, আমি তাদের মনের কষ্টটা বুঝতে পারি। কারণ আমি ছেলেবেলায় অসংখ্যবার এই গ্লানি সহ্য করেছি। তাই এ ধরনের অনুষ্ঠানে গেলে আমি আমার সময়টুকু ব্যয় করি তাদের বোঝাতে যে বিজয়ী হতে না পারা অগৌরবের কিছু নয়। প্রতিযোগিতা একটা ছেলেমানুষি প্রক্রিয়া—পৃথিবীর বড় কাজ প্রতিযোগিতা দিয়ে হয় না, পৃথিবীর সব মহৎ কাজ হয় সহযোগিতা দিয়ে। তাই ছোটখাটো ব্যর্থতায় কোনো গ্লানি নেই, এটা হচ্ছে জীবনের পথচলার অভিজ্ঞতা। সবাইকে এর ভেতর দিয়ে যেতে হবে!

আমি খবর পেয়েছি, অনেক বাচ্চা-কাচ্চাও খবরের কাগজে ছাপা হওয়া আমার কলামগুলো পড়ে ফেলে! (কটমটে নীরস কলাম পড়ে সম্ভবত খানিকক্ষণ আমার মুণ্ডুপাতও করে।) অনুমান করছি, অনেক কম বয়সী ছেলে এই কলামটিও পড়ে ফেলবে। আমি শিরোনামটি এমনভাবে লিখেছি যেন যারা এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে, তারা এটি পড়ে ফেলে।

যাদের পরীক্ষার ফল ভালো হয়েছে তাদের অভিনন্দন। আমি নিশ্চিত তাদের পরিবার হইচই করে মিষ্টি কিনে আনবে—পাড়াপড়শি সবাইকে সেই মিষ্টি দেওয়া হবে। সেই মিষ্টি মুখে না দিয়েই আমি এখনই তার মিষ্টি স্বাদ অনুভব করতে পারছি। তাদের ভবিষ্যৎ জীবনটা হোক আনন্দময়, হোক সৃজনশীল। দোয়া করি তাদের যেন প্রাইভেট পড়তে না হয়, তাদের কোচিং করতে না হয়, জীবনে কখনো যেন তাদের গাইড বই স্পর্শ করে হাতকে অপবিত্র করতে না হয়। দোয়া করি, তারা বড় হয়ে এই দেশের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিক।

যাদের পরীক্ষার ফল মনমতো হয়নি কিংবা আপাতদৃষ্টিতে বলা যায় খুব খারাপই হয়েছে, আমার এই লেখাটি তাদের জন্য। আমি তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, তাদের এই আশাভঙ্গের সবচেয়ে বড় কারণ আমাদের এই পচা শিক্ষাব্যবস্থা। ১০ বছর লেখাপড়া করার পর যদি কেউ শূন্য হাতে বাড়ি ফিরে আসে, তাহলে তার দায়ভার তার একা নেওয়ার কথা নয়। সবাই মিলে এই দেশের লেখাপড়া ঠিক করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। কাজ হচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসে যেটা হয়নি, এই প্রথমবার সেগুলো হচ্ছে। (এই দেশের অসম্ভব বড় সৌভাগ্য যে তারা একজন সত্যিকারের শিক্ষামন্ত্রী পেয়েছে, যিনি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার কথা জানেন। সেটাকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছেন। তাকে অনেক জ্বালা-যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে যেতে হচ্ছে, সেটাও আমরা জানি। কিন্তু তাঁর ভয় পাওয়ার কিছু নেই, দেশের মানুষ তাঁর সঙ্গে আছে।) ভবিষ্যতের ছেলেমেয়েদের যেন এক শিক্ষাব্যবস্থার ভেতর দিয়ে যেতে না হয়, সেটাই আমাদের স্বপ্ন।

যাদের পরীক্ষার ফল ভালো হয়নি, তাদের নিশ্চয়ই মন খারাপ হবে—সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মন খারাপ করে তারা যেন হতাশ হয়ে না যায়। পৃথিবীটা বিশাল, তার চেয়েও বিশাল হচ্ছে মানুষের জীবন। সেই বিশাল জীবনের সঙ্গে তুলনা করলে এসএসসি পরীক্ষাটা খুব ছোট একটা ঘটনা!

কাজেই বিশাল জীবনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য এই ছোট ঘটনার কথা ভুলে নতুন উৎসাহে তাদের জীবন শুরু করতে হবে। তাদের মনে রাখতে হবে—এই বয়সটাই অন্য রকম, এই বয়সটাতে সবকিছুকেই একশ গুণ বড় মনে হয়। আনন্দকে একশ গুণ বড় করে দেখায় দোষ নেই।

কিন্তু দুঃখ-কষ্ট-হতাশাকে একশ গুণ বড় করে দেখা যাবে না। সামনের জীবনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হলে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল: লেখক। অধ্যাপক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।