ডায়েরী
তুসিন আহমেদ

কি রে ! কি খবর?
এই মোটামুটি আছি। তোর কি খবর?
খুব ভাল আছি।
আমি প্রিয়দর্শনী দিকে তাকালাম। তার চোখ গুলো আগের মত নেই। একটু যেন অন্য রকম । অবশ্য আমি ত্তকে অনেক আগে দেখেছি। অনেকদিন পর দেখার কারনে হয়তবা চোখগুলো অন্যরকম লাগছে। সবার চোখগুলো আমি ভাল করি লক্ষ্য করি না। কিন্তু এই মানুষটার চোখগুলো আমি খুব ভাল করে লক্ষ্য করি। ত্তর সামনে আসলে কেন যেন আমার চোখ ত্তর চোখের দিকে চলে যায়।কত সুন্দর ত্তর চোখ দুইটি। ত্তকে নিয়ে কত স্বপ্ন দেখতাম আমি। কত অঝোর বৃষ্টির স্বপ্ন, একটা নীল কুটিরের স্বপ্ন, স্বপ্নের কি কখনো রং হয় যদি হয় তাহলে লাল স্বপ্ন ,নীল স্বপ্ন আর কত কি? এক এক অনেক অনেক স্বপ্ন সাজিয়ে ছিলাম।
মনে পড়ে সেই রাতে কথা । ত্তর সাথে কথা বলতে বলতে আমরা কল্পনা করেছিলাম। যদি বাসায় কেউ না মানে তাহলে আমরা পালিয়ে রাঙ্গামাটি কিংবা পাহাড়ি কোন গ্রামে চলে যাব। যেখানে কেউ আমাদের চিনবে না এবং কেই আমাদের খুঁজে পাবে না। তুই আমাকে শুধু বলতি কি খাবি? কেমন করে চললি। এসব ফালতু আর চাপাগিরির কথা সবাই বলতে পারে। বাস্তব্যতা তো এমন না। ত্তর কাছে যেন আমি আমার বাস্তব্যতা শিখেছিলাম।
কিরে কি ভাবছিস?
না কিছু না ভাসছি না।
এই সব কেন ভাবছি আমি?এখন তো কত আগে কথা। এই স্বপ্ন গুলো সত্যি স্বপ্নের মত রয়ে গেল।
প্রিয়দর্শনী বলল,” তোর চোখগুলো দেখে মনে হচ্ছে কিছু চিন্তা করছিস।তোর চোখগুলো লাল লাগছে কেন?
আমি বললাম,” কই না তো “
তুই আমার সাথে মিথ্যা বলবি না।
আমি বললাম “ আসলে আগের কথা গুলো মনে পড়ছে”
এই তো good boy সত্যি কথা বলেছে। আমি জানি তুই আমার সাথে মিথ্যা বলবি না।after all ……..
এই টুকু বলে ত্ত দেখে গেল।
আমি হাসতে হাসতে বললাম, “ alter all কি?”
প্রিয়দর্শনী কিছু বলল না।কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বলল “byethe way তোর বউ wife কেমন আছে রে?
আমি ত্তর দিকে তাকিয়ে একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বলি , “বাদ দে সেব কথা।তোর কথা বল তোর সংসার কেমন চলছে।তোর husband কেমন আছে?”
প্রিয়দর্শনী বলে,” তোর তো কোন দেখাই পাইনি আমার বিয়ের পর থেকে । কই ছিলি এতদিন।“
ছিলাম এই শহরেই।
প্রিয়দর্শনী অপরাধীর মত করে বলে, “ আমি জানি তুই অনেক কষ্ট পেয়েছিস। কিন্তু……
আচ্ছা বাদ দে তো সেই সব কথা।পুরানো কথা মনে করার কোন কারন নেই।
প্রিয়দর্শনীর চোখ গুলো কেমন যেন লাল হয়ে যাচ্ছে। ত্তর করুন চোখগুলো আমার দেখতে ভাল লাগছিল না। কথা ঘুরানো জন্য আমি বলি, আচ্ছা অশোকা কেমন আছে?”
আচ্ছা তোর মেয়ের নাম কি অশোকা রেখেছিস তো?
প্রিয়দর্শনী বলে , হ্যাঁ। তোর কথা মত।
শুনে আমার ভাল লাগল। যাক আমার একটা কথা হলেত্ত মনে রেখেছে।
আমি বলি , “তোর মেয়ে কি দেখতে snow white এর মত হয়েছে? আর চুল গুলো কি বড় বড় রেখেছিস?
প্রিয়দর্শনী বলে, হ্যাঁ
“ঠিক আমরা যে রকম কল্পনা করতাম সে রকম। “ বলতে বলতে আমার চোখ দিয়ে প্রায় পানি চলে আসছিল। এই প্রিয়দশনী কে কত স্বপ্ন দেখতাম। কত!!!
আমি গল্পের বইয়ের খুব পোকা ছিলাম।জাফর ইকবালের একটা বইয়ে অশোক নামটি পাই। নামটি আমার খুবই পছন্দ হয়। পরদিন প্রিয়দর্শনী কে বলি , তোমার মেয়ে হলে অশোকা রাখবে।“
তখন প্রিয়দর্শনী বলত , “ইর্স শক কত। গাছে কাঠাল গোফে তেল”
তখনকার দিনগুলো কত মজাই না ছিল।একটা দিনের কথা প্রায়ই মনে পড়ে। আমি , প্রিয়দশনী আর আমার একটা বন্ধু বের হয়েছিল ঘুরতে।তখন টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়তেছিল আর আমরা রাস্তায় হাটছি। খুব মাজা লাঘছিল বৃষ্টির মধ্যে হাটতে। টিপটিপ বৃষ্টি আসলেই আমার এই দিনটার কথা মনে পরে।
তোর মেয়ে ত্ত মেয়ের বাবা কই?
ত্তরা গেছে চাইনিজ থেতে গেছে। আমি আবার চাইনিজ -টাইনিজ খেতে পারি না একধুম ভাল লাগে না। খুবই বিরক্ত লাগে।কিন্তু অশোকা ত্ত ত্তর বাবার অনেক লাইক করে। ত্তর খেতে গেছে আর আমি ত্তদের জন্য অপেক্ষা করছি। আমার ভিতরে ঢুকতে ভাল লাগে না।
আর যদি আজকে আমি বাহিরে না অপেক্ষা করতাম তাহলে তোমার সাথে দেখা হতই না।“
হুম । তোকে একটা জিনিস দিব নিবি।
কি দিবি?
মনে আছে তোর আমার কথা হয়েছিল আমাদের যত দিন দেখা হবে না আমার প্রতিদিন একটা করে চিরকুট লিখব । আমি ঠিকই লিখিছি। প্রায়ই আমার ব্যাগে এই চিরকুটগুলে নিয়ে থাকি। যদি তো সাথে কখনো দেখা হয় তখন দিব। এরজন্য। তোকে প্রতিদিন চিরকুট লেখতে লেখতে আমার তিনটা ডায়েরী শেষ হয়েছে।
প্রিয়দর্শনী কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বলে ,” কি করছিস এখন । কোথায় জব করিছ?
এই তো লেখা লেখা করি। কিন্তু মজার কথা হল কোথায় বই ছাপা হয়নি। আর মামা খালু না থাকাল কারনে চাকুরি হচ্ছে না।“
প্রিয়দর্শনী আমার দিকে তাকিয়ে আছে । ত্তর দৃষ্টির মধ্যে একটা করুন ভাব।আমি পরাজিত এক সৈনিক এর মত মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছি।
এমন সময় একটা ফুটফুটে মেয়ে প্রিয়দর্শনীর কাছে আসে।ত্তর মেয়েকে আদর করে বলে.”তোমার বাবা কোথায়”
বাবা আসছে।
আমার দুইজন কিছুক্ষন চোপ করে তাকিয়ে থাকি।আমি অশোকার দিকে তাকাই। আসলে মেয়েটি অনেক সুন্দর হয়েছে।অশোকার মুখে একটা অন্যরকম মায়াবী ভাব আছে।তার চুলোগুলো ত্ত লম্বা ত্ত কালো। দেখেতে একধুন স্লো হোয়াইটের মত হয়েছে। আমার যেমন কল্পনা করতাম।
মা দেখ আব্বু আসছে । আব্বু !!
আমি কিছু না বলে দ্রুত সরে আসি এই জায়গা থেকে। আমি ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেলাম।দ্রুত হাটা শুরু করলাম।প্রিয়দর্শনী আমার দিকে তাকিয়ে ছিল কি না বা ডেকে ছিল না সেই দিন আমি লক্ষ্য করলাম না।আমি এটা সহ্য করতে পারব না যে অন্য একজন প্রিয়দর্শনর পাশে দাড়িয়ে ত্তর কাধে হাত রাখছে কিংবা হাতে হাত রাখছে এবং হেসে কথা বলছে। তাই এই দৃশ্য দেখার আগে সরে এলাম। জানি না প্রিয়দর্শনী রাগ করেছে কি না। আর রাগ করলেই বা কি করার আছে এখন।তখনই আমার মনে হল আরে আমি তো ডায়েরী তিনটা দেই নি।এখন কি আবার যাব ডায়েরীটা দিতে। দেত্তয়া কি উচিত হবে। আমি চিরকুট লেখা ডায়েরীটা দেতে গেলাম। গিয়ে দেখি ত্তর আগে জায়গায় নেই। মানে চলে গেছে। আমি আশেপাশি কিছুক্ষন খোঁজলাম। কিন্তু পেলাম না।
বাসটা একন মহাখালী ফ্রাইত্তভারের উপর দিয়ে যাচ্ছে।আমি কি মনে করে যেন ডায়েরী গুলোকে জানালা দিয়ে নিচে ফেলে দিলাম।
বাস দ্রুত চলছে। জীবন যেভাবে দ্রুত চলে যায়। মনে পড়ছে প্রিয়দর্শনীর অনেকদিন আগের শেষ কথাটা “ অনাবীর তুই আমার জন্য অপেক্ষা করিস আমি আসব। প্লিজ আমার জন্য অপেক্ষা কর। কোন রকম যোগাযোগ করবে না”
জীবনটা যেন এটা বাস । দ্রুত চলতে থাকে । এক ষ্টেশন থেকে আর এক স্টেশন।