“আমি চাই, সবাই আমাকে মনে রাখুক একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই। আমি একজন সাদাসিধে কম্পিউটার প্রোগ্রামার ছিলাম, আমি একটা প্রোগ্রাম তৈরি করেছিলাম, যেটা মানুষের কাজে লেগেছিল। এবং আমি যদি সেই প্রোগ্রামটা তৈরি না করতাম, তাহলে অন্য কোনো মানুষ করত সেটা।”
খুব ভাল লাগল আমার উপরের কথাগুলো। এইকথাগুলো থেকে বুঝা যায় মানুষটা কত সাদাসিধে।আগে মানুষটা সম্পকে জানতাম না খুব একটা। শুধু জানতাম ওনি www এই আবিষ্কার করেছে। নেই তেমন কোন প্রচারনা। আজ প্রথম আলোতে টিম বার্নাস লি নিয়ে লেখা পড়ে খুব ভাল লাগল। ইদানিং আমার ব্লগে খুব বেশি কপি -পেষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কি করব সংবাদপএ এর কিছু কিছু লেখা এত ভাল লেগে যায় তা নিজের সংগ্রহ রাখার লোভে এবং অনেক হয়ত সংবাদপএ পড়া হয় না তাই মাঝে মাঝে খুব ভাল এবং উৎসাহপূন লেখা হারিয়ে যায় না পড়ে। লেখাগুলো শেয়ার করি। যখন মাঝে মাঝে নিজেকে একটু দিশেহার মনে হয় কিছু ভাল লেখা পড়লে আমাদের মনকে মানসিক প্রশান্তি দিতে পারে।আমি এমনটা করি। যখন একটু উদাসীন ভাব চলে আছে, দিশেহার মনে হয় তখন কিছু প্রিয় বই এবং প্রিয় কিছু লেখা পড়ি, মন তখন ভাল হয়ে যায় মোটামুটি। যাক এই নিয়ে কোন আর একদিন লিখব। আমার প্রিয় কিছু লেখা এবং বই শেয়ার করব।এই রকম একটি লেখা এটি। ভাল লাগবে সবার ।
আমার প্রিয় ব্যাক্তিদের তালিকায় শুরুর দিতে রয়েছে স্টিভ জবস। আমি অ্যাপলের ভক্ত বলে্ই মনে হয়। এই ব্যাক্তিটার প্রতি আমি একটু বেশিই আকর্ষন অনুভব । যদিত্ত কখনো অ্যাপলের পন্য ব্যবহার করার ভাগ্য হয়ে উঠেনি……..:( জানি না কবে হবে। এই মূহতে যদি আলাদিনের দৈত এসে আমাকে বলে আমি কি চাই তাহলে বলব , “আইপ্যাড চাই” মাঝে মাঝে আমি স্বপ্নেত্ত দেখি আমি একটা আইপ্যাড কিনে ফেলেছি……:p …………….
আমার ভাক্তির কিছু কথা নিয়ে বেশি কিছুদিন আগে একটা লেখা লিখে ছিলাম।
যাক কাজের কথায় আসি। আগেই বলে নিচ্ছি লেখাটা একটু বড় হবে মনে হচ্ছে। অনেকদিন কিছু লেখা হয় না। আজ সকাল কী-বোড হাতে নিয়ে বসলাম কিছু লিখব বলে কিন্তু লিখতে পারলাম না কিছু্। আস্তে আস্তে মনে হয় ব্লগিং এর অভ্যাস্তটা চলে যাচ্ছে। আগের মত আর নেই মনে হচ্ছে স্টিভ জবস এর নিউজটা
“
অ্যাপল থেকে অবসরে গেলেন স্টিভ জবস”
পড়ে আর থেমে থাকলে পারলাম না। লিখতে বসে পড়লাম। শত হউক আমার প্রিয় ব্যাক্তিদের একজন বলে কথা।
আমি সে প্রযুক্তি প্রতি সবচেয়ে বেশি ভক্ত তা হলে অ্যাপলের প্রযুক্তি। ।অ্যাপলের আইফোন , আইপড, ম্যাকবুক আমার সবচেয়ে প্রিয়ে প্রযুক্তি পন্য গুলো। হঠাৎ করে আমি অ্যাপল প্রতি ভক্ত বেড়ে যায় আইপ্যাড২ দেখার পর। কি নেই এতে???? এই সম্পকে যত তথ্য আছে সব পড়ে ফেললাম। এমন কি youtube তে যত ভিডিত্ত আছে তাত্ত দেখে ফেলাম । কিন্তু দেখে আমি ক্ষাত না। ডাউনলোডর করে রাখরের আইপ্যাড এই সকল ভিডিত্ত। এবং আমার বাসায় কোন বন্ধু আসলে কিন্তু কেউ আসলেই আমি সুযোগ পেলে তাদের আইপ্যাডের রিভিওগুলো দেখাই। মনে মনে দীর্ঘনিশ্বাস ফেলি ইর্স যদি কিনতে পারতাম এই আইপ্যাড।সেদিন আইপ্যাড ২ এর রিভিওটা দেখলাম সেদিন তো সারারাত আমি ঘুমাতে পারিনি। ঘুমের মধ্যে আমি আইপ্যাড ২ স্বপ্নে দেখছি।
শুধু ছবি দেখলেই চলবে না একটু এই ভিডিওটি দেখুন।
আমি আইপ্যাডের প্রেমে পড়িগেছি। সারাদিন চোখের সামনে শুধু আইপ্যাড ঘুরতে। সবাই যখন মোবাইলে কনভার্ট করে ভিডিও গান রাখে আমি রাখি আইপ্যাড রিভিও এর ভিডিও। কেনার সামর্থ নাই তাই মাঝে মাঝে দেখি। দেখিই শান্তি পাই। মনে ভাবি নাই “আঙ্গুল ফল টক”
সে কারনে এই লিখাটা । আজ এটা খরব পড়ে তো আমি ভীষন অবাক। খরবের শিরোনাম ” আইপ্যাড কিনতে কিডনি বিক্রি করলো চাইনিজ কিশোর!”
চলুন খরবটি বিস্তারিত একটু দেখি আছি।
শখ পূরণ করতে আমরা কত কী-ই না করি। মাসের পর মাস কষ্ট করে টাকা জমাই। দু’বেলার জায়গায় হয়তো কখনো একবেলা খেয়ে থাকি। কখনো আবার উপোসও সময় কাটাই তীব্র কোনো শখ পূরণ করতে বা শখের জিনিস কিনতে। কিন্তু কিডনি বিক্রি করে নিতান্তই শখ পূরণ করার নজির বোধহয় এই প্রথম। সম্প্রতি ১৭ বছর বয়সী এক চীনা কিশোর তার কিডনি বিক্রি করেছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ডলারে কেবল আইপ্যাডের শখ পূরণ করতে।
অবিশ্বাস্য হলেও বৃটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ইন্টারনেটে এই ছেলে কিডনি দাতাদের টাকা দেয়ার বিজ্ঞাপন দেখেছে যা মূলত অবৈধভাবে কিডনি বিক্রির বিজ্ঞাপন ছিল। স্থানীয় এক টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ঐ চাইনিজ ছেলে জানিয়েছে, কিডনি বিক্রি করে দিয়ে সে মোট ৩ হাজার ৩৯২ ডলার পেয়েছে যা দিয়ে সে আইপ্যাড ২ এবং একটি ল্যাপটপ কিনেছে।
ছেলেটির মা জানিয়েছে, কিছুদিন ধরেই তার চাল-চলনে সন্দেহ করেন তিনি। কিন্তু প্রথমে কিছুই বুঝতে না পারলেও একদিন হঠাৎই আইপ্যাড আর ল্যাপটপ এবং ছেলেটির পেটে অপারেশনের ক্ষত দেখতে পেয়ে ছেলেকে চেপে ধরলে সে সব স্বীকার করে নেয়।
বিবিসি জানিয়েছে, এভাবে কিডনি বিক্রি করা চীনে অন্যায় এবং অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও দুর্বৃত্তরা নির্বিঘ্নেই তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এরই প্রমাণ এই ঘটনা। কিন্তু কেবল তার প্রমাণ নয়, বরং নতুন প্রযুক্তির প্রতি এসময়ের কিশোর-তরুণদের প্রবল ঝোঁকেরও একটি প্রমাণ হিসেবে বলা যায় এই ঘটনাকে।
যাক ছেলেটি দেখে সাহস পাচ্ছি…………এখন কিছু প্রশ্ন । একটা কিডনি দিয়েত্ত তো বাচা যায় তাই না। তাহলে আমিত্ত আমার একটা কিডনি বিক্রি করি!!!! :p শখ বলে কথা। কত দিন আর বাচব।….!!!! পড়ে টাকা হয়ে নতুন লাগিয়ে নিব……… আগে এটা আইপ্যাড কিনি।???!!!!
আমি আজ একটা লেখা শেয়ার করবো সবার সাথে। এই লেখাটি একটি বক্তব্যের লেখ্যরূপ যে বক্তব্যটি উপস্থাপিত হয়েছিলো বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে। বক্তব্যটি বেশ পুরোনো। তবে আমার জীবনে শোনা সবচাইতে মুগ্ধকর আর উৎসাহমূলক বক্তব্য। তাই সবার সাথে শেয়ার করে নিতে চাইছি। এই বক্তব্য দিয়েছিলেন স্টিভ জবস। যিনি অ্যাপল এবং পিক্সার অ্যানিমেশন নামক দুইটি সেরা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। বক্তব্য রেখেছিলেন ২০০৫ সালের ১২ জুন। লেখাটির ইংরেজি রূপ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া।
বক্তার জীবনের মতন এত রকম কঠিন সময়, কষ্টকর সময় আর বৈচিত্র্য আমাদের সবার জীবনে থাকেনা। কিন্তু আমাদের জীবনে থাকে অনেক রকম ঘাত-প্রতিঘাত আর সফলতার আকাঙ্ক্ষা। আর তাই সবারই এই লেখাটা পড়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি, ভালো লাগবে আর অনুপ্রাণিত হবেন সেই নিশ্চয়তা দিচ্ছি
——–
প্রথমেই একটা সত্য কথা বলে নিই।
আমি কখনোই বিশ্ববিদ্যালয় পাস করিনি। তাই সমাবর্তন জিনিসটাতেও আমার কখনো কোনো দিন উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। এর চেয়ে বড় সত্য কথা হলো, আজকেই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান সবচেয়ে কাছে থেকে দেখছি আমি। তাই বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। কোনো কথার ফুলঝুরি নয় আজ, স্রেফ তিনটা গল্প বলব আমি তোমাদের। এর বাইরে কিছু নয়।
আমার প্রথম গল্পটি কিছু বিচ্ছিন্ন বিন্দুকে এক সুতায় বেঁধে ফেলার গল্প।
স্টিভ জবস– অ্যাপেল কম্পিউটারের প্রতিষ্ঠাতা
ভর্তি হওয়ার ছয় মাসের মাথাতেই রিড কলেজে পড়ালেখায় ক্ষ্যান্ত দিই আমি। যদিও এর পরও সেখানে আমি প্রায় দেড় বছর ছিলাম, কিন্তু সেটাকে পড়ালেখা নিয়ে থাকা বলে না। আচ্ছা, কেন আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়লাম?
এর শুরু আসলে আমার জন্মেরও আগে। আমার আসল মা ছিলেন একজন অবিবাহিত তরুণী। তিনি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। আমার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আমাকে এমন কারও কাছে দত্তক দেবেন, যাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি আছে। সিদ্ধান্ত হলো এক আইনজীবী ও তাঁর স্ত্রী আমাকে দত্তক নেবেন। কিন্তু একদম শেষ মুহূর্তে দেখা গেল, ওই দম্পতির কারোরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নেই, বিশেষ করে আইনজীবী ভদ্রলোক কখনো হাইস্কুলের গণ্ডিই পেরোতে পারেননি। আমার মা তো আর কাগজপত্রে সই করতে রাজি হন না। অনেক ঘটনার পর ওই দম্পতি প্রতিজ্ঞা করলেন, তাঁরা আমাকে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবেন, তখন মায়ের মন একটু গললো। তিনি কাগজে সই করে আমাকে তাঁদের হাতে তুলে দিলেন।
এর ১৭ বছর পরের ঘটনা। তাঁরা আমাকে সত্যি সত্যিই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছিলেন। কিন্তু আমি বোকার মতো বেছে নিয়েছিলাম এমন এক বিশ্ববিদ্যালয়, যার পড়ালেখার খরচ প্রায় তোমাদের এই স্ট্যানফোর্ডের সমান। আমার দরিদ্র মা-বাবার সব জমানো টাকা আমার পড়ালেখার পেছনে চলে যাচ্ছিল। ছয় মাসের মাথাতেই আমি বুঝলাম, এর কোনো মানে হয় না। জীবনে কী করতে চাই, সে ব্যাপারে আমার কোনো ধারণা নেই এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা এ ব্যাপারে কীভাবে সাহায্য করবে, সেটাও বুঝতে পারছিলাম না। অথচ মা-বাবার সারা জীবনের জমানো সব টাকা এই অর্থহীন পড়ালেখার পেছনে আমি ব্যয় করছিলাম। তাই আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং মনে হলো যে এবার সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।
সিদ্ধান্তটা ভয়াবহ মনে হলেও এখন আমি যখন পেছন ফিরে তাকাই, তখন মনে হয়, এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি ডিগ্রির জন্য দরকারী কিন্তু আমার অপছন্দের কোর্সগুলো নেওয়া বন্ধ করে দিতে পারলাম, কোনো বাধ্যবাধকতা থাকল না, আমি আমার আগ্রহের বিষয়গুলো খুঁজে নিতে লাগলাম।
পুরো ব্যাপারটিকে কোনোভাবেই রোমান্টিক বলা যাবে না। কারণ তখন আমার কোনো রুম ছিল না, বন্ধুদের রুমের ফ্লোরে ঘুমোতাম। ব্যবহৃত কোকের বোতল ফেরত দিয়ে আমি পাঁচ সেন্ট করে কামাই করতাম, যেটা দিয়ে খাবার কিনতাম। প্রতি রোববার রাতে আমি সাত মাইল হেঁটে হরেকৃষ্ণ মন্দিরে যেতাম শুধু একবেলা ভালো খাবার খাওয়ার জন্য। এটা আমার খুবই ভালো লাগত। এই ভালো লাগাটাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
রিড কলেজে সম্ভবত দেশে সেরা ক্যালিগ্রাফি শেখানো হতো সে সময়। ক্যাম্পাসে সাঁটা পোস্টারসহ সবকিছুই করা হতো চমৎকার হাতের লেখা দিয়ে। আমি যেহেতু আর স্বাভাবিক পড়ালেখার মাঝে ছিলাম না, তাই যে কোনো কোর্সই চাইলে নিতে পারতাম। আমি ক্যালিগ্রাফি কোর্সে ভর্তি হয়ে গেলাম। সেরিফ ও স্যান সেরিফের বিভিন্ন অক্ষরের মধ্যে স্পেস কমানো-বাড়ানো শিখলাম, ভালো টাইপোগ্রাফি কীভাবে করতে হয়, সেটা শিখলাম। ব্যাপারটা ছিল সত্যিই দারুণ সুন্দর, ঐতিহাসিক, বিজ্ঞানের ধরাছোঁয়ার বাইরের একটা আর্ট। আমি এর মধ্যেই মজা খুঁজে পেলাম।
এ ক্যালিগ্রাফি জিনিসটা কোনো দিন বাস্তবজীবনে আমার কাজে আসবে—এটা কখনো ভাবিনি। কিন্তু ১০ বছর পর আমরা যখন আমাদের প্রথম ম্যাকিনটশ কম্পিউটার (আমরা যাকে ম্যাক বলে চিনি) ডিজাইন করি, তখন এর পুরো ব্যাপারটাই আমার কাজে লাগল। ওটাই ছিল প্রথম কম্পিউটার, যেটায় চমৎকার টাইপোগ্রাফির ব্যবহার ছিল। আমি যদি সেই ক্যালিগ্রাফি কোর্সটা না নিতাম, তাহলে ম্যাক কম্পিউটারে কখনো নানা রকম অক্ষর (টাইপফেইস) এবং আনুপাতিক দূরত্বের অক্ষর থাকত না। আর যেহেতু উইন্ডোজ ম্যাকের এই ফন্ট সরাসরি নকল করেছে, তাই বলা যায়, কোনো কম্পিউটারেই এ ধরনের ফন্ট থাকত না। আমি যদি বিশ্ববিদ্যালয় না ছাড়তাম, তাহলে আমি কখনোই ওই ক্যালিগ্রাফি কোর্সে ভর্তি হতাম না এবং কম্পিউটারে হয়তো কখনো এত সুন্দর ফন্ট থাকত না। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে এক সুতায় বাঁধা অসম্ভব ছিল, কিন্তু ১০ বছর পর পেছনে তাকালে এটা ছিল খুবই পরিষ্কার একটা বিষয়।
আবার তুমি কখনোই ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকে এক সুতায় বাঁধতে পারবে না। এটা কেবল পেছনে তাকিয়েই সম্ভব। অতএব, তোমাকে বিশ্বাস করতেই হবে, বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো একসময় ভবিষ্যতে গিয়ে একটা অর্থবহ জিনিসে পরিণত হবেই। তোমার ভাগ্য, জীবন, কর্ম, কিছু না কিছু একটার ওপর তোমাকে বিশ্বাস রাখতেই হবে। এটা কখনোই আমাকে ব্যর্থ করেনি, বরং উল্টোটা করেছে।
আমার দ্বিতীয় গল্পটি ভালোবাসা আর হারানোর গল্প।
আমি খুব ভাগ্যবান ছিলাম। কারণ, জীবনের শুরুতেই আমি যা করতে ভালোবাসি, তা খুঁজে পেয়েছিলাম।
আমার বয়স যখন ২০, তখন আমি আর ওজ দুজনে মিলে আমাদের বাড়ির গ্যারেজে অ্যাপল কোম্পানি শুরু করেছিলাম। আমরা পরিশ্রম করেছিলাম ফাটাফাটি, তাই তো দুজনের সেই কোম্পানি ১০ বছরের মাথায় চার হাজার কর্মচারীর দুই বিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়। আমার বয়স যখন ৩০, তখন আমরা আমাদের সেরা কম্পিউটার ম্যাকিন্টোস বাজারে ছেড়েছি। এর ঠিক এক বছর পরের ঘটনা। আমি অ্যাপল থেকে চাকরিচ্যুত হই। যে কোম্পানির মালিক তুমি নিজে, সেই কোম্পানি থেকে কীভাবে তোমার চাকরি চলে যায়? মজার হলেও আমার ক্ষেত্রে সেটা ঘটেছিল। প্রতিষ্ঠান হিসেবে অ্যাপল যখন বড় হতে লাগল, তখন কোম্পানিটি ভালোভাবে চালানোর জন্য এমন একজনকে নিয়োগ দিলাম, যে আমার সঙ্গে কাজ করবে। এক বছর ঠিকঠাকমতো কাটলেও এর পর থেকে তার সঙ্গে আমার মতের অমিল হতে শুরু করল। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ তার পক্ষ নিলে আমি অ্যাপল থেকে বহিষ্কৃত হলাম। এবং সেটা ছিল খুব ঢাকঢোল পিটিয়েই। তোমরা বুঝতেই পারছ, ঘটনাটা আমার জন্য কেমন হতাশাজনক ছিল। আমি সারা জীবন যে জিনিসটার পেছনে খেটেছি, সেটাই আর আমার রইল না।
সত্যিই এর পরের কয়েক মাস আমি প্রচন্ড দিশেহারা অবস্থায় ছিলাম। আমি ডেভিড প্যাকার্ড ও বব নয়েসের সঙ্গে দেখা করে পুরো ব্যাপারটার জন্য ক্ষমা চাইলাম। আমাকে তখন সবাই চিনত, তাই এই চাপ আমি আর নিতে পারছিলাম না। মনে হতো, ভ্যালি ছেড়ে পালিয়ে যাই। কিন্তু সেই সঙ্গে আরেকটা জিনিস আমি বুঝতে পারলাম, আমি যা করছিলাম, সেটাই আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। চাকরিচ্যুতির কারণে কাজের প্রতি আমার ভালোবাসা এক বিন্দুও কমেনি। তাই আমি আবার একেবারে গোড়া থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলাম।
প্রথমে মনে না হলেও পরে আবিষ্কার করলাম, অ্যাপল থেকে চাকরিচ্যুতিটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো ঘটনা। আমি অনেকটা নির্ভার হয়ে গেলাম, কোনো চাপ নেই, সফল হওয়ার জন্য বাড়াবাড়ি রকমের কৌশল নিয়ে ভাবার অবকাশ নেই। আমি প্রবেশ করলাম আমার জীবনের সবচেয়ে সৃজনশীল অংশে।
পরবর্তী পাঁচ বছরে নেক্সট ও পিক্সার নামের দুটো কোম্পানি শুরু করি আমি, আর প্রেমে পড়ি এক অসাধারণ মেয়ের, যাকে পরে বিয়ে করি। পিক্সার থেকে আমরা পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার অ্যানিমেশন ছবি টয় স্টোরি তৈরি করি। আর এখন তো পিক্সারকে সবাই চেনে। পৃথিবীর সবচেয়ে সফল অ্যানিমেশন স্টুডিও। এরপর ঘটে কিছু চমকপ্রদ ঘটনা। অ্যাপল নেক্সটকে কিনে নেয় এবং আমি অ্যাপলে ফিরে আসি। আর লরেনের সঙ্গে চলতে থাকে আমার চমত্কার সংসার জীবন।
আমি মোটামুটি নিশ্চিত, এগুলোর কিছুই ঘটত না, যদি না অ্যাপল থেকে আমি চাকরিচ্যুত হতাম।
এটা আমার জন্য খুব বাজে আর তেতো হলেও দরকারি একটা ওষুধ ছিল। কখনো কখনো জীবন তোমাকে ইটপাটকেল মারবে, কিন্তু বিশ্বাস হারিয়ো না। আমি নিশ্চিত, যে জিনিসটা আমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল সেটা হচ্ছে, আমি যে কাজটি করছিলাম, সেটাকে আমি অনেক ভালোবাসতাম।
তোমাকে অবশ্যই তোমার ভালোবাসার কাজটি খুঁজে পেতে হবে, ঠিক যেভাবে তুমি তোমার ভালোবাসার মানুষটিকে খুঁজে বের করো। তোমার জীবনের একটা বিরাট অংশজুড়ে থাকবে তোমার কাজ, তাই জীবন নিয়ে সত্যিকারের সন্তুষ্ট হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে এমন কাজ করা, যে কাজ সম্পর্কে তোমার ধারণা, এটা একটা অসাধারণ কাজ। আর কোনো কাজ তখনই অসাধারণ মনে হবে, যখন তুমি তোমার কাজটিকে ভালোবাসবে। যদি এখনো তোমার ভালোবাসার কাজ খুঁজে না পাও, তাহলে খুঁজতে থাকো। অন্য কোথাও স্থায়ী হয়ে যেয়ো না। তোমার মনই তোমাকে বলে দেবে, যখন তুমি তোমার ভালোবাসার কাজটি খুঁজে পাবে। যেকোনো ভালো সম্পর্কের মতোই, তোমার কাজটি যতই তুমি করতে থাকবে, সময় যাবে, ততই ভালো লাগবে। সুতরাং খুঁজতে থাকো, যতক্ষণ না ভালোবাসার কাজটি পাচ্ছ। অন্য কোনোখানে নিজেকে স্থায়ী করে ফেলো না।
আমার শেষ গল্পটির বিষয় মৃত্যু।
আমার বয়স যখন ১৭ ছিল, তখন আমি একটা উদ্ধৃতি পড়েছিলাম—‘তুমি যদি প্রতিটি দিনকেই তোমার জীবনের শেষ দিন ভাব, তাহলে একদিন তুমি সত্যি সত্যিই সঠিক হবে।’ এ কথাটা আমার মনে গভীরভাবে রেখাপাত করেছিল এবং সেই থেকে গত ৩৩ বছর আমি প্রতিদিন সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করি—আজ যদি আমার জীবনের শেষ দিন হতো, তাহলে আমি কি যা যা করতে যাচ্ছি, আজ তা-ই করতাম, নাকি অন্য কিছু করতাম? যখনই এ প্রশ্নের উত্তর একসঙ্গে কয়েক দিন ‘না’ হতো, আমি বুঝতাম, আমার কিছু একটা পরিবর্তন করতে হবে।
পৃথিবী ছেড়ে আমাকে একদিন চলে যেতে হবে, এ জিনিসটা মাথায় রাখার ব্যাপারটাই জীবনে আমাকে বড় বড় সব সিদ্ধান্ত নিতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে। কারণ, প্রায় সবকিছুই যেমন, সব অতি প্রত্যাশা, সব গর্ব, সব লাজলজ্জা আর ব্যর্থতার গ্লানি—মৃত্যুর মুখে হঠাৎ করে সব নেই হয়ে যায়, টিকে থাকে শুধু সেটাই, যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। তোমার কিছু হারানোর আছে—আমার জানা মতে, এ চিন্তা দূর করার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে, সব সময় মনে রাখা যে একদিন তুমি মরে যাবে। তুমি খোলা বইয়ের মতো উন্মুক্ত হয়েই আছ। তাহলে কেন তুমি সেই পথে যাবে না, যে পথে তোমার মন যেতে বলছে তোমাকে?
প্রায় এক বছর আগের এক সকালে আমার ক্যানসার ধরা পড়ে। ডাক্তারদের ভাষ্যমতে, এর থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই আমার। প্রায় নিশ্চিতভাবে অনারোগ্য এই ক্যানসারের কারণে তাঁরা আমার আয়ু বেঁধে দিলেন তিন থেকে ছয় মাস। উপদেশ দিলেন বাসায় ফিরে যেতে। যেটার সোজাসাপটা মানে দাঁড়ায়, বাসায় গিয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও। এমনভাবে জিনিসটাকে ম্যানেজ করো, যাতে পরিবারের সবার জন্য বিষয়টা যথাসম্ভব কম বেদনাদায়ক হয়।
সারা দিন পর সন্ধ্যায় আমার একটা বায়োপসি হলো। তাঁরা আমার গলার ভেতর দিয়ে একটা এন্ডোস্কোপ নামিয়ে দিয়ে পেটের ভেতর দিয়ে গিয়ে টিউমার থেকে সুঁই দিয়ে কিছু কোষ নিয়ে এলেন। আমাকে অজ্ঞান করে রেখেছিলেন, তাই কিছুই দেখিনি। কিন্তু আমার স্ত্রী পরে আমাকে বলেছিল, চিকিৎসকেরা যখন এন্ডোস্কোপি থেকে পাওয়া কোষগুলো মাইক্রোস্কোপের নিচে রেখে পরীক্ষা করা শুরু করলেন, তখন তাঁরা কাঁদতে শুরু করেছিলেন। কারণ, আমার ক্যানসার এখন যে অবস্থায় আছে, তা সার্জারির মাধ্যমে চিকিৎসা সম্ভব। আমার সেই সার্জারি হয়েছিল এবং দেখতেই পাচ্ছ, এখন আমি সুস্থ।
কেউই মরতে চায় না। এমনকি যারা স্বর্গে যেতে চায়, তারাও সেখানে যাওয়ার জন্য তাড়াতাড়ি মরতে চায় না। কিন্তু মৃত্যুই আমাদের গন্তব্য। এখনো পর্যন্ত কেউ এটা থেকে বাঁচতে পারেনি। এমনই তো হওয়ার কথা। কারণ, মৃত্যুই সম্ভবত জীবনের অন্যতম প্রধান আবিষ্কার। এটা জীবনের পরিবর্তনের এজেন্ট। মৃত্যু পুরোনোকে ঝেড়ে ফেলে ‘এসেছে নতুন শিশু’র জন্য জায়গা করে দেয়। এই মুহূর্তে তোমরা হচ্ছ নতুন, কিন্তু খুব বেশি দিন দূরে নয়, যেদিন তোমরা পুরোনো হয়ে যাবে এবং তোমাদের ঝেড়ে ফেলে দেওয়া হবে। আমার অতি নাটুকেপনার জন্য দুঃখিত, কিন্তু এটাই আসল সত্য।
তোমাদের সময় সীমিত। কাজেই কোনো মতবাদের ফাঁদে পড়ে, অর্থাৎ অন্য কারও চিন্তাভাবনার ফাঁদে পড়ে অন্য কারও জীবনযাপন করে নিজের সময় নষ্ট করো না। যাদের মতবাদে তুমি নিজের জীবন চালাতে চাচ্ছ, তারা কিন্তু অন্যের মতবাদে চলেনি, নিজের মতবাদেই চলেছে। তোমার নিজের ভেতরের কণ্ঠকে অন্যদের শেকলে শৃঙ্খলিত করো না। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, নিজের মন আর ইনটুইশনের মাধ্যমে নিজেকে চালানোর সাহস রাখবে। ওরা যেভাবেই হোক, এরই মধ্যে জেনে ফেলেছে, তুমি আসলে কী হতে চাও। এ ছাড়া আর যা বাকি থাকে, সবই খুব গৌণ ব্যাপার।
আমি যখন তরুণ ছিলাম, তখন দি হোল আর্থ ক্যাটালগ নামের অসাধারণ একটা পত্রিকা প্রকাশিত হতো; যেটা কিনা ছিল আমাদের প্রজন্মের বাইবেল। এটা বের করতেন স্টুয়ার্ড ব্র্যান্ড নামের এক ভদ্রলোক। তিনি তাঁর কবিত্ব দিয়ে পত্রিকাটিকে জীবন্ত করে তুলেছিলেন।
স্টুয়ার্ট ও তাঁর টিম পত্রিকাটির অনেক সংখ্যা বের করেছিল। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে, আমার বয়স যখন ঠিক তোমাদের বয়সের কাছাকাছি, তখন পত্রিকাটির শেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়। বিদায়ী সেই সংখ্যার শেষ পাতায় ছিল একটা ভোরের ছবি। তার নিচে লেখা ছিল— ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো । এটা ছিল তাদের বিদায়কালের বার্তা– “ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো”।
আমি নিজেও সব সময় এটা মেনে চলার চেষ্টা করেছি। আজ তোমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি ছেড়ে আরও বড়, নতুন একটা জীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছ, আমি তোমাদেরও এটা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।
Stay Hungry. Stay Foolish.
ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো
তোমাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
— —
পরিশেষে বলা যায় – অ্যাপল আরত্ত কত কিছুদেখাবে। সত্যি স্যালুট অ্যাপলকে।কিন্ত দাম এত বেশি হত্তয়ার স্যালুট দিতে কষ্ট হচ্ছে।আর কবে বাংলাদেশে অ্যাপলের শোরুম আসবে…….??
মাঝে মাঝে কিছু লেখা কিংবা সংবাদ অনেক ভাল লেগে যায়। জীবনের নানা কাজে সেই সংবাদগুলো কাজে লাগে।এই রকম একটা তথ্য হল এটি। আমার বেশ ভাল লেগেছে তাই ব্লগে দিয়ে দিলাম
অল্প বয়সেই শুরু করেছিলেন তারা। আর আজ তারা প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী। কিন্তু বয়স এখনও ত্রিশের কোটা পেরোয়নি। এ যুগের কপোরেট দুনিয়ার রাজাধিরাজ মানা হয় বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্ণধারদেরকেই। চিফ একজিকিউটিভ অফিসার, সংক্ষেপে সিইও পদের এই ব্যাক্তিদের হাতেই আজকের এই পেশাদার পৃথিবী। তরুণ বয়সে প্রতিষ্ঠা করা কোম্পানিগুলোর এখন দাম আর প্রভাবই সিইওদের ত্রিশের কম বয়সেই বসিয়েছে প্রযুক্তিবিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে।
সারা বিশ্বে টেকনোলজির ওপর আধিপত্য বিস্তার করা এরকমই কিছু সিইওর তালিকা সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন আন্ডারথার্টিসিইও-এর প্রতিষ্ঠাতা জেরার্ড ও’টুল। তালিকায় স্থান পাওয়া এইসব সিইওর কারোর বয়সই কিন্তু ৩০ এর ওপরে নয়। ৩০ বছরের কম বয়সী কিন্তু এর মধ্যেই দুনিয়াতে প্রভাব বিস্তার করে ফেলা ৩০ সিইওর এই তালিকা এর মধ্যেই হৈ চৈ ফেলে দিয়েছে অনলাইনে। ৩০ এর নিচের যেসব সিইও তাদের প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছেন এবং সফলভাবে বাস্তবায়িত হওয়া সেইসব প্রকল্প মানুষের জীবনে কতখানি প্রভাব ফেলেছে, ও’টুলের তালিকা নির্ধারণের মানদণ্ড হিসেবে কাজ করেছে এগুলোই। Continue reading →
আমি কোথায় ফুল দিতে যাইনি আজ। বাসায় বসে আছি । কোন শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাব না আজ। কি খারাপ আমি তাই না। দেশের জন্য একটুকুত্ত মামতা নেই??!! আমার কি উচিত ছিল না আজ শহীদ মিনারে ফুল দেত্তয়া । কিন্তু ভাল লাগছে না যেতে।শরীরটা ও ভাল না। মাথা প্রচন্ড ব্যাথা করছে। তা না হলে যেতাম। সত্যি আমাদের দেশে এত সুন্দর তা আগে আমার নিজেরত্ত ধারনা ছিল না । বিউটিফুল বাংলাদেশে নামে তিন মিনিটের ভিডিত্তটি না দেখেলে আমি নিজে বিশ্বাস করতাম না। আসলে কেমন করেই বা জানাব। আমাদের সবার কি সেই সুযোগ আছে। কেমন যেন বদমেজাজীভাবে কাটছে দিনগুলো…….!!!থাক সেই সব কথা।
বিউটিফুল বাংলাদেশে” ভিডিত্তটি যারা দেখেনি তারা একটু দেখুন
আমি জানি তুই আজত্ত আমার কথা ভাবিস
জানি মাঝে মাঝে দু’নয়ন জলে ভরে
তবুও যেন কত অসহায়
তোকে কোন দোষ দিচ্ছি না….
দোষ যেন আমার ভাগ্যের
মাঝে মাঝে আমিও নষ্টালজি হই
দু’টি চোখও আমার জলে ভরে
ভাবি সেই স্বপ্নের কথা
রাঙ্গামাটির পথে দু’জন
পাহাড়ের উপর ছোট ঘর
বইমেলায় ঘুড়ে বেড়ানো কান্ত শরীরে বাংলা একাডেমীতে বসে পড়া
বেশি কিছু চায়ও ছিল না
ছিল শুধু এক খন্ড সুখের স্বপ্ন
এগুলো কখনো ঘটেনি এমন কি স্বপ্নেও না..
শুধু আমার কল্পনাকে ঘটেছে
তবুত্ত ঘটনাগুলো এত বাস্তব মনে হচ্ছে কেন?
দোষটা কি একাই আমারই !!!!
উইকিলিকসের ফাঁস করে দেওয়া মার্কিন নথিগুলোতে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে ‘সচেতন’ দেশটি।
নথিগুলোতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে সাত বছরে মুসলিমদের সংখ্যা ১৬ লাখ থেকে বেড়ে ২০ লাখে দাঁড়িয়েছে। তাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধির হার এভাবে চলতে থাকলে ২০১১ সালে দেশটিতে মুসলমানদের সংখ্যা ২২ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।
যুক্তরাজ্যে সার্বিকভাবে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে তবে বৃদ্ধির হার কম। দেশটিতে জন্মগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর তালিকায় নিচের দিক থেকে মুসলিমরা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
এরমধ্যে বেশিরভাগেরই জন্ম যুক্তরাজ্যের বাইরে। ৪৬ শতাংশের জন্ম যুক্তরাজ্যে। ৩৯ শতাংশের জন্ম এশিয়ায়। ৯ শতাংশের জন্ম বাংলাদেশে।
৭৪ শতাংশ মুসলিম এশীয় বংশোদ্ভূত। এর মধ্যে বাংলাদেশি ১৬ শতাংশ।
ফাঁস হয়ে যাওয়া মার্কিন নথিতে দেখা গেছে, কুয়েতভিত্তিক একটি দাতব্য সংস্থা থেকে জঙ্গিদের অর্থায়নের ব্যাপারে বাংলাদেশের তদন্তের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ভরসা রাখেনি।
‘দ্য রিভাইভাল অফ ইসলামিক হেরিটেজ সোসাইটি (আরআইএইচএস) নামের এই দাতব্য সংস্থাটির বিশেষ করে বাংলাদেশে এর শাখাগুলোর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মার্কিন সরকারের উদ্বেগের কথা প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিক ও’ব্রিয়েন অর্থ জালিয়াতি রোধ এবং সন্ত্রাসবাদ বিরোধী তহবিলের (এমএমএল/সিটিএফ) বিষয়ে আলোচনার জন্য কুয়েত সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
তিনি কুয়েত ভিত্তিক দাতব্য সংস্থা ‘দ্য রিভাইভাল অফ ইসলামিক হেরিটেজ সোসাইটি (আরআইএইচএস) বিশেষ করে বাংলাদেশে এর শাখাগুলোর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মার্কিন সরকারের উদ্বেগের কথা জানান।
ও’ব্রিয়েন আরআইএইচএস-এর শাখাগুলোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারগুলোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন।
তিনি আরো জানান, আরআইএইচএস-এর শাখাগুলো যে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে সে সম্পর্কে আরো তথ্য সংগ্রহ ও তা কুয়েত সরকারের কাছে হস্তান্তর করার জন্য মার্কিন সরকার বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে কাজ করছে।
তবে বাংলাদেশ বলছে, মার্কিন সরকার যে সব অভিযোগ উত্থাপন করেছে তার সঙ্গে তাদের মতের মিল নেই।
‘ দুই নেত্রীকেই নির্বাচনে চেয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ‘শেষ সময়ে এসে’ শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচনে দেখতে চায় বলে ফাঁস হয়ে যাওয়া মার্কিন নথির এক জায়গায় জানানো হয়েছে।
২০০৮ সালের অক্টোবর-নভেম্বর মাসের ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের নথিতে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষই আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা খালেদা জিয়ার ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে।”
সে সময়কার সেনা সমর্থিত তত্ত্বাধায়ক সরকার বিদেশি দূতাবাস ও বাংলাদেশের সুশীল সমাজের ইন্ধনে দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে বাদ দেওয়ার তথাকথিত ‘মাইনাস টু থিওরি’ নিয়ে এগুচ্ছিলো বলে ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয়।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই জরুরি অবস্থা জারি করে। বিশ্বাস করা হতো এই সরকারের পেছনে দাতা দেশ ও সুশীল সমাজের মদত রয়েছে।
ওই সময় দুই নেত্রীকে কারাগারে আটক রাখা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দেওয়া হয়। দুটি দলের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা দলের নেতৃত্ব থেকে হাসিনা ও খালেদাকে বাদ দেওয়ার ব্যাপারেও মাঠে নামে।
নথিতে দূতাবাসের গবেষণার বরাত দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষই আশু নির্বাচনের পক্ষে। নির্বাচন বানচাল মানুষ মানবে না বলেও মন্তব্য করা হয়।
সে সময় নির্বাচন নিয়েও সন্দেহ ছিলো জনমনে। শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ: ‘নজরে ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের’
উইকিলিকসের ফাঁস করে দেওয়া মার্কিন নথিতে বাংলাদেশের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ওপর দেশটির নজরদারির অভিপ্রায়ের কথা রয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উইকিলিকসের ফাঁস করা মার্কিন গোপন নথির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারির ব্যাপারে মার্কিন সরকারের অভিপ্রায় রয়েছে।
নথিতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘে যারা কাজ করতে যাবেন তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদানের বিষয়ে বিশ্ব সংস্থায় মার্কিন দূতাবাসের গবেষণা শাখাকে প্রতিবেদন দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের যোগদানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যুক্ত করার জন্য বলা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে কার্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের নাম, বিজনেস কার্ডে উল্লেখ নাম, পদবী ও অন্যান্য তথ্য, টেলিফোন, সেল ফোন, পেজার ও ফ্যাক্সের সংখ্যা, যোগাযোগ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য, টেলিফোন নম্বরসমূহ (সম্ভব হলে সিডি বা ইলেকট্রনিক ফরম্যাটে), ই-মেইলের তালিকা; ইন্টারনেট ও ইন্ট্রানেট যোগাযোগ, ইন্টারনেট ই-মেইল ঠিকানাসমূহ, ওয়েবসাইট ঠিকানা-ইউআরএল, ক্রেডিট কার্ড একাউন্ট নম্বরসমূহ, ঘনঘন বিমান যাতায়াতের একাউন্ট নম্বর (ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লাইয়ার নম্বর), কর্ম তালিকা এবং পরিচয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য।
আমি কালো, মোটা, দেখতে সুন্দর না তাই বলে আমার সাথে এমন ব্যাবহার করবে।
বড় আপু ,ভাইয়াকে তো এমন কর না। আমার জ্বর হলে তো একবারও খোজ নাও না। আর আপুর জ্বর হলে "মা গো কেমন আছে বলে জান শেষ করে ফেল" কেন বাবা?? আমি কি তোমাদের মেয়ে না। দেখতে খারাপ বলে কি ??
আমি খারাপ ছাএী বলে। কই আমি এ+ নাই পাই ফেল তো করি নাই।৪.৮৮ পেয়েছি। তাও কি প্রতিদিন আমাকে বলতে হবে "তুই এ+ পেলি না তোর বন্ধুরা সবাই পেল"}
মা আমি তো পরীক্ষার সময় অসুস্থ ছিলাম এটা একবারও বল না কেন?
আগে তর্ক করতাম এখন সেই ভাষাটা হারিয়ে ফেলেছি।
"একটি মেয়ের " ডায়েরীর কিছু অংশ"
খারাপ লাগে নিজের কাছে এমন কোন ঘটনা দেখলে। কিন্তু প্রতি মুহূতে এই রকম কিছু ঘটনা চোখের সামনে না ঘটলেও আড়ালে ঘটে।যা বিশেষ কিছু প্রশ্ন দাড় করায়
সৌন্দর্য কি সবচেয়ে বড় কথা??
রুপ আছে তো সব আছে??
ভাল টুডেন্ট হলেই কি সব হয়ে যায়??