Category Archives: মুক্তিযুদ্ধ

“ও আমার দেশের মাটি “একটি প্রশ্ন ও কিছু ডাউনলোড,ও কিছু কথা … এবং আমার বিজয় দিবস

সকালে ঘুম ঘুম চোখে ঘুম থেকে উঠে আমার প্রথম কাজ হয় পিসি অফ করা। সারা রাত ডাউনলোড দিয়ে রাখি। সকালে যদি ভাইয়া দেখে আমার পিসি ওপেন করা তাহলে তো কথাই নেই। সুন্দর সুন্দর কিছু কথা বলবে। যেগুলো শুনলে আমার মেজাজা খারাপ হয়ে যায়। বড় ভাইয়েরা এত ঝালায় তা বলার মত না :( মাঝে মাঝে মন চায় !!! যদি আমি যদি বড় হতাম তাহলে আমার ভাইটাকে সারাদিন বকা উপর রাখতাম । আমার ভাবতে ভাল লাগে আমি বড় এবং চোখ বন্ধ করে কল্পনা করি আমি বড় ভাই হয়ে গেছি এবং ভাইয়া আমার ছোট ভাই হয়ে গেছে তখণ মন মত বকাঝকা করতে থাকি ভাইয়াকে কল্পানায :P :D
আজ আমার ব্যাস্ততা একটু কম অন্য দিনগুলো থেকে। অনেকদিন ব্লগে লিখি না। অন্যান্য ব্লগুলো পড়া হয়না বেশ কিছুদিন যাবত। তাই ভাবলাম আজ একটু ব্লগগুলো লেখা পড়ব ।
ইদানিং সময়টা কোন দিয়ে যাচ্ছে একধুম টেরই পাচ্ছি না। এই সকাল হচ্ছে এই দুপুর এই বিকাল এই রাতের ঘুম এভাবে যেন খুব দ্রুত সময় পার হয়ে যাচ্ছে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে একধুম পারছি না। আজ তারিখ হল ১.১২.২০১১  আমার বিজয়ের মাস শুরু । প্রথমে ব্যাপারটি লক্ষ্য করলার ফেইসবুকে সবাই নিজেদের প্রোফাইল ছবি পরিতর্বন করা দেখে অনেককে দেখলাম যদি পরিবর্তন করছে। ব্যাপারটা খুব ভাল লাগল দেখে। সত্যি কিছু মানুষের হলেও মনে আছে এই মাসটির কথা। সকালে উঠে এটা দেখি মনটা ভাল হয়ে যেতে চাইল Continue reading

আমরি বাংলা ভাষা ও একুশে ফেব্রুয়ারি……..ইতিহাস তাদের কি ভুলা যায়??

আমি কোথায় ফুল দিতে যাইনি আজ। বাসায় বসে আছি । কোন শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাব না আজ। কি খারাপ আমি তাই না। দেশের জন্য একটুকুত্ত মামতা নেই??!! আমার কি উচিত ছিল না আজ শহীদ মিনারে ফুল দেত্তয়া । কিন্তু ভাল লাগছে না যেতে।শরীরটা ও ভাল না। মাথা প্রচন্ড ব্যাথা করছে। তা না হলে যেতাম। সত্যি আমাদের দেশে এত সুন্দর তা আগে আমার নিজেরত্ত ধারনা ছিল না । বিউটিফুল বাংলাদেশে নামে তিন মিনিটের ভিডিত্তটি না দেখেলে আমি নিজে বিশ্বাস করতাম না। আসলে কেমন করেই বা জানাব। আমাদের সবার কি সেই সুযোগ আছে। কেমন যেন বদমেজাজীভাবে কাটছে দিনগুলো…….!!!থাক সেই সব কথা।

বিউটিফুল বাংলাদেশে” ভিডিত্তটি যারা দেখেনি তারা একটু দেখুন

এবার আসুন দেখি আসি সেই ইতিহাসটি Continue reading

অতীতের চিলোকোঠায় এক খন্ড আর্তচিৎকার

চারপাশে অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি। মাথাটা ঘুরছে। মনে হচ্ছে পৃথিবীটা টেনিস বলের মত ঘুরছে।আমি বেঁচে আছি না কি মরে গেছে এটা বুঝতে আমার কয়েক মুহূর্ত সময় লাগল।আমি বুঝতে পারলাম আমি মারা যাচ্ছি।দু”টা বুলেট আমার পায়ের ভিতরে খেলা করছে। আমি তীব্র যন্তনায় ছটফট করছি।কাউকে ডাকার চেষ্টা করলাম কিন্তু কেউ শুনল না।চিৎকার করে ডাকার শক্তিটুকু আমার নেই।চারপাশে গোলাবরুদের তীব্র গন্ধ ও আত্তয়াজ পাত্তয়া যাচ্ছে।আমি তাহলে সত্যি আজ মারা যাব। চোখের সামনে ভেসে উঠছে ছেলেবেলার ছবি,শৈশবের স্মৃতি।কিন্তু সবগুলো দৃশ্য দেখলাম সাদা কালো।তাহলে কি মৃত্যুর কাছাকাছি চলে গেলে মানুষ সাদা কালো দেখে দেখে।না আমি আর কিছু চিন্তা করতে পারছি না।চোখ দুটো বন্ধ হয়ে আসছে।

নতুন করে বেঁচে উঠা

চোখের মধ্যে তীব্র আলো পড়ছে। চোখ আর বন্ধ করে রাখতে পারলাম না। চোখ খুলে তাকালাম।দেখলাম জানালা দিয়ে সূর্যের তীব্র আলো আমার চোখে পড়ছে।এর রকম সকালের সূর্যের আলো কতদিন দেখি না।আমি প্রানভরে সূর্যের আলো দেখছি। এতদিনের চেনাজানা আলোটা আজ এত ভাল লাগছে কেন??যদি সূর্যের আলোকে বোতলের মধ্যে ভরে সংরক্ষন করা যেত আজ আমি তাই করতাম। “বাবা কেমন আছে?” আমি পাশে তাকালাম। একজন মাঝারি বয়সের মহিলা দাড়িয়ে আছে।আমি এখানে কেন??কেমন করে আসলাম বুঝতে পারছি না। মনে হয় কেউ অসুস্থ অবস্থায় আমাকে তুলে এনেছে। “ ভাল আছি” এরপর আমাদের পরিচয় পর্ব হল শেষ হল। আমি সংক্ষেপে আমার পরিচয় দিলামা । যুদ্ধের কথা বললাম।আমি অবাক হয়ে দেখলাম এই মহিলা আমাকে চিনে না কিন্তু এমন করে কথা বলছে যেন আমি কতদিনের চেনা।মনে হচ্ছে যুদ্ধ আমাদের আপন হউয়ার শিক্ষা দিচ্ছে।

ভালবাসার প্রথম প্রহর

এই বাড়িতে আমার একটা দিন কেটে গেল। Continue reading

মুক্তিযোদ্ধে এক কিশোরের গল্প শুনি…{কিশোরটি যে কারনে খুন করেছিল গর্ভনর মোনায়েম খানকে}

শুরুর কথা-  “মুক্তিযোদ্ধে আমাকে বারবার টানে। বিশেষ করে যখন আমি কোন মুক্তিযোদ্ধের বই পড়ি তখন।  আমার প্রিয় বইয়ের তালিকায় এই মুক্তিযোদ্ধের বইয়ের স্থান দিব সবার উপরের। এখনো যে বইটার কথা ভুলতে পারব না তা হল , জাহারানা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি, আনিসুল হকের – মা

হুমায়ন আহমেদ এর- জোছনা জননীর গল্প । জাহানার ইমামকে নিয়ে আমি একটা লেখা লিখেছিলাম কিছুদিন আগে। এখান থেকে  একাত্তরের দিনগুলি বইটি ডাউনলোড করে নিতে পারেন। এখানে থেকে

আজ শহীদ জননী জাহানারা ইমাম এঁর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী এবং আমার কিছু কথা”

একাত্তর যখনই আমি কোথায় এই শব্দটি পড়ি তখন আমার ১৯৭১ সালের কথা মনে পড়ে । যুদ্ধের সময় আমার জম্নত্ত  হয়নি। বিভিন্ন বই পড়ে, মুভি দেখে নাটক দেখে যুদ্ধের সম্পকে আমার মুটামোটি ভাল একটা ধারনা হয়েছে। কি ভায়ল দিনই না ছিল। ভাবলে এখনো আমার গায়ে কাটা দেয়। সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় আমাকে রাজাকারদের কান্ড দেখে। যারা দেশে মানুষ হয়ে দেশের মানুষদের এমন করে হত্যা করে।

এদের কেন বিচার এখনো শূরু হচ্ছে না। কয়েকদিন এই নিয়ে বেশ খবর দেখি। এখন কেন যেন বিচার নিয়ে চুপ মনে হচ্ছে । নিজামী মুজাহিদের কি বন্দী করে বিচার শেষ !!!

একাত্তরের সময় একবার যে কি না মাএ নবম শ্রেনীতে পড়ত।  তার সেই দেশপ্রেমর কথা আমাদের অনেকই অজানা।

“যিনি কিনা ৭১ সালে মাত্র নবম শ্রেনীর ছাত্র ছিলেনতিনি বাংলাদেশের বীরপ্রতিক খেতাব প্রাপ্ত একজন যোদ্ধা
ইতিহাস এই মানুষটিকে নিয়ে খুব একটা কথা বলে নাঅনেক না জানা অধ্যায়ের মতোই এই মুক্তিযোদ্ধা ইতিহাসের অন্ধকার জায়গায় রয়ে গেছেনতাঁর নাম মোজাম্মেল হকতিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানকে হত্যা করেছিলেন সমস্ত নিরাপত্তা বেষ্টনি ভেঙেঅবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে ঘটনাটি অনেকেরই অজানা
তিনি খুব অকপটে বলেছেন সেই খুনের ঘটনাটি।”

নবম শ্রেনীতে পড়তাম। বাবার বড় ছেলে। বাবা কৃষক। তেজগাঁও সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হই। স্কুলে যেতাম এখান থেকে হেঁটে গুলশান ৯ নম্বর। সেখান থেকে বিআরটিসি বাসে করে তেজগাঁও। বাসে করে যেতে যেতে যে জিনিসটা আমাকে টাচ করতো, সেটা হইলো ড্রাইভার-হেল্পার সবাই অবাঙালিদের সমাদর করতো আর বাঙালিদের দেখতে পারতো না। ষষ্ঠ শ্রেণী থেকেই শেখ মুজিবের সবগুলো জনসভায় যেতাম। কলেজে ও ছাত্ররা এসে আমাদের নিয়ে যেত স্কুল থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের মিছিলে যেতাম। তখন স্লোগান শুনতাম – আইয়ুব-মোনায়েম দুই ভাই/ এক রাশিতে ফাঁসি চাই। তখনোই মনে হইতো মোনায়েম খান লোকটা তো বাঙালী, সে নিশ্চই খুব খারাপ। নইলে আইয়ুব খানের সঙ্গে মিলিয়ে তার ফাঁসি কেনো চায়।
বনানী কবরস্থানের পশ্চিম দিকে ছিল মোনায়েম খানের বাড়ি। প্রতি শুক্রবার সে তার বউয়ের কবর জিয়ারত করতে আসতো আর রাস্তায় খুব জ্যাম লেগে থাকতো। ঘন্টা দুই ঘন্টা। আমরা এজন্যও তার উপর বিরক্ত ছিলাম।

১৯৭১সালের মে মাসে আমি সেক্টর-২ এর অধীনে ফ্রিডম ফাইটার ঢাকা ক্যান্টনম্যান্ট গ্র“পে যোগ দেই। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন খালেদ মোশাররফ। সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন মেজর হায়দার। ক্যান্টনম্যান্ট গ্র“পের কমান্ডার ছিলেন এম এ লতিফ, সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন রহিমুদ্দিন। আমাদের দলে ছিল ১৩ সদস্য। এর মধ্যে আমি ছাড়া আরো তিনজন ছিলো নবম শ্রেণীর ছাত্র। এরা হলো ফেরদৌস, গিয়াসউদ্দিন আর আনোয়ার। ত্রিপুরার পাহাড়ি এলাকার মেলাঘর ছিলো আমাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। ওখানে প্রশিক্ষণের পর আমাদের পাঠানো আমাদের এলাকায়। কিন্তু কুমিল্লা বর্ডারে ক্রস করার সময় পাকিস্তানী আর্মিদের এমবুশে পড়ে যাই। আমরা ফিরে আসি ভারতে। ওখান থেকে আবার মেলাঘর। মেজর হায়দার বললেন, তোমাদের দিয়া গেরিলা অপারেশান হবে না। পাকিস্তানি আর্মিদের এমবুশে পড়ে তোমাদের নৈতিক পরাজয় ঘটেছে। তোমরা শুধু ক্যাম্পে ক্যাম্পে গোলাবারুদ আনা নেয়া করবা।
আমার খুব মন খারাপ হয়ে গেলো। আমরা হইলাম কৃষকের পোলা। যুদ্ধ করতে আইছি, যুদ্ধ করতে না পারলে ক্যামনে হইবো। যুদ্ধে আসার সময়ই আমার জিদ ছিল, যেমন কইরাই হোক একটা বড় কাজ করতে হইবো, না পারলে ইতিহাসে জায়গা হইবো কেমনে।
তখন মনে হইলো কি মেজর হায়দারের মন জয় করতে না পারলে আর গেরিলা যুদ্ধ হবে না। মেলাঘরে ক্যাম্পের বিশ-বাইশ গজ দুরত্বে একটা ছনের দোচালা বেড়া ঘরে ছিল তার অফিস। মাঝখানে একটা টেবিল নিয়া সব সময় ওইখানে বসে কাজ করতেন তিনি।
প্রত্যেকদিন সকালে লক্ষ্য করতাম এটা। একটানা বাইশ-তেইশ দিন। ঘন্টার পর ঘন্টা। তার দিকে তাকায়া থাকতাম। আমার টার্গেট হইলো সে দেখুক আর বলুক, তুই এখানে খাড়ায়া আছস কেন! কারণ কি? অনেক অপেক্ষার পর একদিন সেই সুযোগ হইলো।
তিনি আমারে বললেন, কিরে এইহানে দাড়ায়া আছস ক্যান।
আমি কই আমারে গেরিলা যুদ্ধে পাঠান।
আমারে কইলো, তোর সাহস কেমুন. কারে মারতে পারবি? শুইন্না কিছুক্ষণ চিন্তা করলাম। তখন তো যুদ্ধ। পাকিস্তানি শত্র“দের মারাটাই হইলো মূল কথা। বললাম, স্পিকার আব্দুল জব্বার খানকে মারতে পারমু।
আমাদের সঙ্গে ছিল জব্বার খানে ছেলে বাদল। তখন জানতাম না বাদল যে জব্বার খানের ছেলে।
ওরে দেখাইয়া বললেন, হেরে চিনস, হের বাপই তো আব্দুল জব্বার খান। পুরা টাস্কি লাইগা গেলাম। হায় হায় এখন কি হইবো। আবার চিন্তা করতে থাকলাম। কিছুক্ষণের পর বললাম, আপনিই কন, কারে মারতাম?

কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর বললেন, মোনায়েম খানরে মারতে পারবি?

সঙ্গে সঙ্গেই মনে হইলো ওর বাড়ি আমি চিনি। আমার বড় চাচায় মোনায়েম খানের বাড়িতে তার সিন্ধি গরুর দুধ দোহান করে। বললাম, মারতে পারলেন কি দিবেন? বললেন, কি চাস? বললাম, কোমরের পিস্তলটা চাই। হেসে বললেন, মারতে পারলে এই পিস্তল তো কিছুই না, বাঙালী জাতি তরে মাথায় লইয়া নাচবো। আমি বললাম, পারবো। মনে মনে বললাম, পারতেই হইবো।
তিনি খুব খুশি হইলেন। আমার পিঠে চাপড়াইয়া দিলেন। এখনো আমি মাঝে মইধ্যে ওই পিঠ চাপড়ানো টের পাই। অনেক সাহস আর দিছিলেন ওই পিঠ চাপড়াইয়া। বললেন, আজকেই তগো ঢাকা ক্যান্টম্যান্ট গ্র“পে পাঠামু।

তখন সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে। ক্যাম্পে গিয়া সবারে বললাম, চলো যাই। হায়দার ভাই ডাকছে সবাইরে। আমগরে অপারেশানে পাঠাইবো।

ঢাকায় আইসা ভাটারায় গেলাম। চাচার বাসা। চাচা হলেন বাবার বড় ভাই। আব্দুল জব্বার। গরুর দুধ দোহানোতে অভিজ্ঞ বলে মোনায়েম খানের বাড়িতে দুধ দোহানোর কাজ করতেন। ওই বাড়িতে চাচার কাজের কারণেই খুব যাতায়াত ছিল। তারেই প্রথম প্রস্তাব দিলাম সহযোগিতা করার জন্য। চাচা বললেন, হায় হায় আমাগো সব বাড়িঘর জালায়া দিবো।

এরপর ওই বাড়ির চাকর শাহজাহান আর মোখলেসের লগে খাতির করলাম। শাহজাহান হলো ওই বাড়ির রাখাল ওর সঙ্গে গল্প করতাম। গরু কতটুকু দুধ দেয়, বেতন কতো, চাকরিতে আরাম কেমন, এত বড় মানুষের বাসায় কাজ কইরা সুবিধা কেমন ইত্যাদি জিজ্ঞেস করতে গিয়া বুঝলাম তারা খুবই ক্ষেপা মোনায়েম খানের ওপর। বলে, সে এমুন লোক, গরু দুধ দোহানোর সময় মোড়া লইয়া বইয়া থাকে, বেতন তো দেয়ই না। পালায়া গেছি তিনবার। পুলিশ দিয়া ধইরা আনছে। কত মুক্তি বাহিনী আছে, ওরা কি একবারও এদিকে আইবার পারে না।

বুঝতে পারলাম একে দিয়েই কাজ হইবো। বললাম, বিকেলে গরু বাইন্দা ছুটি হইলে আইয়া পড়েন। গুলশানে দুই নম্বরের আরমান রেস্টরেন্টে। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পরিচয় করাইয়া দিমু।

দুই দিন তারে ঘুরাইলাম। তার ইচ্ছার তীব্রতা কতটুকু বোঝার জন্য। দেখলাম সে সত্যি সত্যিই চায়। পরে তারে বললাম, মুক্তি বাহিনী লাগবো না, আমার লগেই অস্ত্র আছে। আমিই পারুম। তৃতীয় দিন তার অবস্থা বুঝে তার সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। অস্ত্র নিলাম ভারতীয় স্টেনগান-৩৬, এইচ.জি.হ্যান্ড গ্রেনেড আর একটা ফসফরাস। ফসফরাসের ব্যবহার হইলো আগুন লাগানোর জন্য।

শাহজাহানের সাথে গরু ঢোকানোর সময় ঢুকলাম। গরু ঢোকানোর একটা আলাদা গেইট আছে। ওই গেইটের সঙ্গে মূল বাড়ির আরেকটা ছোট্ট গেইটের সঙ্গে সংযোগ আছে। পাশেই ছিল কলাবাগান। ঢুইকাই আমি কলাবাগানে লুকাইয়া থাকলাম। ভেতর থেকে ঘুইরা আইসা শাহজাহান বললো আজকে কাজ হইবো না। উনি অসুস্থ, উপরে উইঠা গেছে। ওনার ছেলে উঠার সিড়ির প্রথম ঘরটাতেই থাকে, অস্ত্রশস্ত্র নিয়াই থাকে। যাওয়াটা ঠিক হইবো না।

বর্তমানে যেইটা কবরস্থান, এর পূর্বে পার্শ্বেই ছিল খ্রিষ্টান্দের গির্জা। ওখানে ইটের স্তুপ ছিল। বের হয়ে অস্ত্রের ব্যাগটা ওইখানে রাইখা আসলাম।

পরদিন আবার প্রস্তুতি নিয়া ঢুকলাম। গরু ঢোকানোর গেইটের মধ্যে একটা ২০০ ওয়াটের বাল্ব জ্বলছিল। প্রথমে ওটা ভেঙে ফেললাম। আমার অবস্থান যেন না বোঝা যায় সেজন্যই বাল্ব ভেঙেফেলছিলাম। উল্টা হইলো কি, বাল্ব ভাঙায় শোরগোল পইড়া গেল, চোর ঢুকছে, চোর ঢুকছে। তাড়াতাড়ি বাড়ির উত্তর পার্শ দিয়া লাফ দিয়া আসলাম। কোনোক্রমে বেঁচে গেলাম। মনটাই খারাপ হয়ে গেল। এরপর দুই দিন শাহজাহান আর মোখলেসের সঙ্গে দেখা করি নাই।

ভাটারয় এখন যে মন্দিরটা আছে, এই মন্দিরটার পেছনেই ছিল জমিদারদের কাচাড়ি বাড়ি। ওখানে বনেদি হিন্দুরা বসে তাস খেলতো। এরকম দিশাহীনভাবে ঘুরছিলাম। সেদিনটা ছিল ১৩ অক্টোবর। কি করবো, কি হবে কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না। এ সময়ে আমাকে একজন ডাকলো মোজাম্মেল ভাই বলে। আমিতো খুবই অবাক। কারণ এলাকার লোকজন আমারে ডাকে নূর মোহাম্মদ নামে। বাইরের লোকেই কেবল ডাকে মোজাম্মেল নামে। ঘাড় ঘুরাইয়া দেখি শাহজাহান।

দুই দিন আমি না যাওয়ায় ওরা ভাবছিল আমি তাদের বিশ্বাস করতে পারি নাই। বললো, আপনি কি বিশ্বাস করতে পারতেছেন না?
শাহজাহান আবার তার ক্ষোভের কথা বলল মোনায়েম খানের বিরুদ্ধে। সে মনেপ্রাণে চায় আমি যেনো মোনায়েম খানকে মারতে পারি। শাহজাহানের কথা শুনে আমার মনে হইলো, মরি আর বাচি যাই হোক আমার আজকে যাইতেই হবে এবং যা করার আজকেই করতে হইবো।

আমি তাকে বসাইয়া রেখে গেলাম আরেকজনকে খুঁজতে। বাড়িতে গেলাম। আমার চাচাতো ভাই আনোয়ারকে খুঁজতে, অর্থাৎ যারেই পাই একজনকে নিয়ে যেতে চাই। আনোয়ারকে নিয়ে আসলাম। তখন স্বন্ধ্যা পৌনে সাতটা। কলাবাগান দিয়েই ঢুকলাম, আগে যেভাবে ঢুকেছিলাম। সঙ্গে গির্জায় অস্ত্রগুলো নিয়ে আসলাম।
শাহজাহান গরু বাইন্ধা, ভেতর থেইকা ঘুইরা আইসা কইলো. আজকে সব ঠিক আছে। ড্রইংরুমে বইসা কথা বলতাছে মোনায়েম খান, শিক্ষামন্ত্রী আমজাদ হোসেন খান, আর তার মেয়ের জামাই জাহাঙ্গীর আদেল।
আমি শাহজাহান আর মোখলেসকে বললাম, তোমাদের কাপড়-চোপড় যা প্রয়োজনীয় জিনিস আছে, সব নিয়া বাইর হইয়া যাও, কারণ ঘটনা ঘটার পর মরুক আর বাচুক, তোমাগোরেই প্রথম ধরবো।
জিজ্ঞেস করলাম, মোনায়েম খান কন জন, ভালোমতো তো চিনি না।
শাহজাহান বলল, মাঝখানে বওয়া, মাথায় টুপি পরা, ওইটাই মোনায়েম খান।

ওই সময় কড়া নিরাপত্তা চলছিল মোনায়েম খানের বাড়িতে। গেটে বেলুচ পুলিশ, গেটের বাইরে তাঁবু খাটিয়ে আরেক প্লাটুন পুলিশ। আর তার একটু দুরে অস্ত্রধারী মিলিটারীরা। তবে এত কিছুতে ভয় ছিল না। কারণ আজকে যা করার করতেই হবে। কোনো প্রকার চিন্তা-ভাবনা না কইরাই আগাই গেলাম ড্রইংরুমের দিকে। পুরা কাজ করতে সময় লাগলো বড়জোর ২মিনিট।

ড্রইংরুমের দরজা খোলা। শাহজাহান যেভাবে বলেছে, সেভাবেই তারা কথা বলছে মাথা নিচু করে। টুপি পরা মোনায়েম খানকে লক্ষ্য করেই স্টিনগান চালালাম। ম্যাগজিন ছিল মাত্র দুটি। ট্রিগারে চাপ দিলাম। ভুর ভুর কইরা গুলি বাইর হইলো। একটা শব্দ শুনলাম, ওমাগো বইলা মোনায়েম চিৎকার দিলো। আর বাকি দুইজন ছোটাছুটি করতেছে, সোফার তলায়- দরজার কোণায়। আমি আরেকটা ম্যাগজিন ঢুকাইলাম। কিন্তু কাজ করলো না। এর মধ্যে মিলিটারি গুলি করতে করতে গেইট দিয়া ঢুকতেছে। পেছনে চাইয়া দেখি আনোয়ার নাই। আমি দৌড় দিয়া বাইর হইয়া দেয়াল টপকাইয়া কবরস্থানের দিকে ঢুইকা পড়লাম। পেছনে খালি গুলির শব্দ। পুরা বাড়ি ঘেরাও কইরা ফালাইছে। কবরস্থানের পাশেই লেক। লেক সাতরাইয়া পার হইতে গিয়া ক্লান্ত হইয়া পড়ি। একটা কোষা নৌকা বান্দ আছে। সেটা দিয়া গুলশান লেকের পাশ পর্যন্ত আসলাম। গলার সমান পানি ব্রিজের নিচে। ওপর দিয়া না যাইয়া, ব্রিজের নিচ দিয়া বারিধারা বালুর চরে আইসা উঠলাম। পরে একটু স্থির লাগলো। একটা চায়ের দোকানে আইলাম। আমার কান্ধে স্টেনগান দেইখা সে দোকান বন্ধ কইরা দৌড় দিলো।

ক্যাম্পে ফিরা যাইতে ইচ্ছা হইলো না। গলায়, পায়ে-হাতের বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াতে গিয়ে কেটে গেছে। মনে হইলো, আজকে যাই হোক, সব কিছুই তামা কইরা ফেলুক পাকিস্তানি মিলিটারি। আজকে আমি বাড়ি যামু। বাড়ি যাইয়া ঘুমামু।
বাড়িতে গেলাম। তখনো জানি না, মোনায়েম খান সত্যি সত্যি মরছে না বাঁইচা আছে। বাড়ি গিয়াই ঘুমাই গেলাম। পরদিন ১৪ অক্টোবর সকাল সাতটা সোয়া সাতটার দিকে বড় চাচা, জব্বর চাচা আমারে চিৎকার কইরা ঘুম ভাঙাইলো। বলল, সকালের খবরে বলছে যে, গতকাল রাতে দুস্কৃতকারীর হাতে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খান গুলিবিদ্ধ হন নিজ বাসভবনে। আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাসতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। সেই প্রথম জানলাম খবরটা। আমার যে কি ভাল্লাগতাছিলো আর হালকা লাগতেছিলো তা বলে বোঝনো যাবে না।
চাচা আমারে বাসা থাইকা চইলা যাইতে কইলো। না গেলে এ বাড়ির সবাইরে খুন কইরা ফেলব মিলিটারি।
আমি বাড়ি ছাড়লাম। ক্যাম্পে আসলাম। মেজর হায়দাররে জানালাম। আমারে জড়াইয়া ধরলেন। বললেন, এখন কি পিস্তলটা লাগবো?

আমারে বুকে জড়াইয়া রাখলেন অনেক্ষণ। এরপর পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত আমি বনানী গুলশান এলাকার দায়িত্ব পালন করি। স্বাধীনতার পর সরকার আমারে বীর প্রতিক ঘোষণা করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ যুদ্ধাপরাধ, কয়েকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, শামীমা বিনতে রহমান
———————————————————————————
অবিশ্বাস্য সাহসী এই সাহসী কিশোর ৭১-এ শুধু যুদ্ধের জন্য খুন করেছিলেন ক্ষমতাধর গভর্নর মোনায়েম খানকেএই সাহসী কিশোরের গল্প শোনা যায় না বাংলার ইতিহাসেদুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য মোনায়েম খানের মেয়ের জামাই জাহাঙ্গীর আদেল ৭৫-এর পর ডেপুটী মেয়র হয়আদেল তার বিরুদ্ধে ৫০টির বেশী মামলা ঠুকে দেয়তার উপর চলে অমানুষিক হয়রানিযার ফলে তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়তিনি ৭৬-এর দিকে জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে চলে যান দেশে ফেরেন ১৯৮৩ সালেতখন তিনি ভাটারা এলাকার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন
ইতিহাসে নায়ক হওয়া এই মানুষটির গল্প হয়তো অনেকেই জানে তবে শুধু যুদ্ধ করার জন্য যে তিনি মোনায়েম খানকে হত্যা করেছিলেন, নিজের যোগ্যতার প্রমাণের জন্য যে তিনি খুন করেছিলেন তা ইতিহাসের পাতায় জানা নাই
মোজাম্মেল হককে বাংলার এই সাধারণ সন্তানের পক্ষ থেকে জানাই স্যালুট ও সম্মান

সহায়ক-

১. উৎস-১

২. উৎস-২

গ্রেফতার হল…..রাজাকাররা……শুনে মনে একটা তৃপ্তি পেলাম—

আমি ভেবে পাই না এই রাজাকারের বাচ্চার কেমন করে বাংলাদেশের মাটিতে বাংলাদেশে জাতীয় পতাকা নিয়ে দামি দামি গাড়িতে ঘুরে বেড়ায়। আমি এই নিয়ে কয়েকটি লিখা লিখেছিলাম। ১/১১ এ সময় সব নেতা – কর্মীকে গ্রেফতার করে জেলে নেত্তয়া হয় ।কিন্তু জামাতের এই রাজাকারের বাচ্চগুলো কে কেন কেউ জেলে নিতে পারে নি । রাজাকারগুলো কি কোন অপরাধ নেই ??আমি এই প্রশ্নটা উত্তর খুজেঁ পাই না। যারা একাত্তরের হাজার হাজার বাংলার মানুষকে হত্যা করেছে যার  যা কি না প্রমানিত তবুত্ত কেন এখনো রাজারের বাচ্চাদের বিচার করা হচ্ছে না। জাহানার ইমামের মত কি আর মা তার সন্তানহারনো বিচারের দাবিতে চিৎকার করতে করতে মারা যাবে !!  আর বাংলার মানুষ এই ধর্ম ব্যাবসাহিদের সহ্য করতে। আর কত…..!!!

কাল নিউজটা শুনে আমার আনেক ভাল লাগল

বিস্তারিত

জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও কেন্দ্রীয় নেতা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীকে গ্রেফতার করা হয়েছে৻

এর আগে ঢাকা মূখ্য মহানগর আদালত এই মামলায় জামায়াতের চারজন নেতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে৻ তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে৻ অল্প সময়ের ব্যবধানে ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়৻

মি. নিজামীকে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এবং মি. মুজাহিদকে সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়৻ দলের নায়েবে আমীর মি. সাঈদীকে গ্রেফতার করা হয় ঢাকার মতিঝিল থানা এলাকায় শহীদবাগ থেকে৻

মামলায় অন্য একজন অভিযুক্ত হলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর কমিটির আমীর রফিকুল ইসলাম খান৻

রায় দেওয়ার সাথে সাথেই তা গণমাধ্যমে চলে আসে ও তার বাস্তবায়ন ঘটে৻ সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাদের গ্রেফতার করেছে

মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, জামায়াত নেতা

আদালতে হাজির হওয়ার নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত না হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে এই চার নেতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়৻

এই মামলায় অভিযুক্ত ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতা আ স ম ইয়াহিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে৻

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান বিবিসিকে বলেছেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাদের নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে৻

‘রায় দেওয়ার সাথে সাথেই তা গণমাধ্যমে চলে আসে ও তার বাস্তবায়ন ঘটে৻ সরকার যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাদের গ্রেফতার করেছে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই‘ বলেন মি.কামারুজ্জামান৻

আইনের চোখে সবাই সমান৻ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে

মাহবুবুল আলম হানিফ, আওয়ামী লীগ নেতা

গত মার্চ মাসে ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক আলোচনা সভায় রফিকুল ইসলাম খান ইসলামের নবী হযরত মোহাম্মদের সাথে জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামীকে তুলনা করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন বলে তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী একটি মামলা দায়ের করেন৻

আমি চাই অতি দ্রুত এই রাজাকারের বাচ্চাদের বিচার করা হয়……………………….তা না হলে আমাদের বাংলাদেশের………সন্তানহারা,মা……..দের………আত্না শান্তি পাবে……..না……..

বিচার চাই!!! বিচার চাই.!!!!!!!! রাজাকারেরদের………………..

আজ শহীদ জননী জাহানারা ইমাম এঁর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী এবং আমার কিছু কথা

“আজ বিকেলে রুমী ক্রিকেট খেলা দেখে তার বন্ধুদের বাসায় নিয়ে আসবে হ্যামবার্গার খাত্তয়ানোর জন্য।“

সবাই বুঝতে পারছেন আমি শহীদ জননীর জাহানার ইমামের কথা বলছি। আমার প্রিয় মানুষেদের তালিকায় রয়েছে জাহানারা ইমাম। যারা “একাত্তরের দিনগুলো” বইটা পড়েননি তারা কখনো জাহানার ইমামকে চিনতে পারবে না। আমি অনেক আগে থেকে বিভিন্ন বই পএিকায় জাহানার ইমামের কথা শুনিছি । শুনে আমি আগ্রহ করে কয়েকটা বই পড়ে ফেললাম অনেক ভাল লাগল.।একজন মা দেশের জন্য তার ছেলেকে কেমন করে উৎসর্গ করতে পারে তার বড় উহদারন তিনি। Continue reading

এবার জামাত সমর্থিত একটি গবেষনা প্রতিষ্ঠান আওয়ামী যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা করল!

খবরটা পড়ে খুব অবাক লাগল । কথায় আছে না চোরের মার বড় গলা । ব্যাপারটা আসলে এমন !!!!!

বর্তমান সরকার সন্দেহভাজন যুদ্ধাপরাধের তালিকা তৈরি করে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরুর প্রেক্ষিতেই জামাত সমর্থিত একটি গবেষনা সংস্হা এ উদ্যোগ নিয়েছে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ ট্রাইবুনালেকে ওয়ার ক্রাইম ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’র মতই আওয়ামি দলীয় যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা জমা দেবেন তারা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আওয়ামী লীগের যেসব নেতা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন উক্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাদের তালিকা করছে। জামায়াত আসলে সেই সময়ে আওয়ামী লীগে থাকা যুদ্ধাপরাধীদের খুঁজছে। অন্যান্য দলের নেতাদের নিয়েও আরেকটি তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

এ ধরনের তালিকার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যেহেতু তদানীন্তন জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকাকে অবলম্বন করে আমাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে যুদ্ধাপরাধী ইসু চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে, সঙ্গত কারণেই আমরা সেই সময়কার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার কী ভূমিকা ছিল- তা খোঁজ নেয়ার কিছুটা প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি।’ কামারুজ্জামান বলেন, ‘যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে- তাতে দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রচুরসংখ্যক নেতা পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করেছেন। তাদের মধ্যে বর্তমান আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে, এমনকি মন্ত্রিসভার সদস্যও আছেন। তাঁদের পিতা-পরিবারের সদস্যরাও জামায়াতের মতোই পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন।’

‘ওয়ার ক্রাইম ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’র আহ্বায়ক ডা. এমএ হাসান জামায়াতের আওয়ামী লীগে যুদ্ধাপরাধী খোঁজার বিষয়ে আমাদের সময়কে বলেন, ‘তালিকা করুক না ক্ষতি কী? তাদের করা তালিকাভুক্তরা সত্যিকার অপরাধী হলে সরকারের উচিত এর বিচার করা।’ তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো, দলের মর্যাদা অক্ষুণ ও নিষ্কলুষ করার জন্য নিজেদের উদ্যোগেই জরুরি ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি করা উচিত।’

আওয়ামি যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা:

নোয়াখালী থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের ‘এমএনএ’ (জাতীয় পরিষদ) মো. ওবায়দুল্লাহ মজুমদার ও চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ (প্রাদেশিক পরিষদ) অধ্যাপক শামসুল হক দু’জনই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর তৈরি এমএ মালেকের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।

তালিকাভুক্ত অপর আওয়ামী লীগ নেতারা হচ্ছেন- চট্টগ্রামের প্রাদেশিক আসন ২৪ থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, পটুয়াখালী থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ মুজিবুর রহমান তালুকদার, যশোর থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ মো. মঈনুদ্দীন মিয়াজী, খুলনার ‘এমপিএ’ হাবিবুর রহমান খান, বগুড়া থেকে নির্বাচিত গণপরিষদ সদস্য মো. হাবিবুর রহমান, ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে নির্বাচিত ‘এমএনএ’ জহির উদ্দিন, লে. কর্নেল একেএম মাহবুবুল ইসলাম (পাবনা), সৈয়দ হোসেইন মনসুর (পাবনা), মো. আবদুল গাফফার (খুলনা), মো. সাঈদ (খুলনা), মোশাররফ হোসেন শাহজাহান, একে ফায়জুল হক (বরিশাল), এবিএম নুরুল ইসলাম (ফরিদপুর), আমজাদ হোসেন খান (ফরিদপুর), মো. নুরুল ইসলাম (ঢাকা), আখতারুজ্জামান (ময়মনসিংহ), সৈয়দ বদরুজ্জামান ওরফে এসবি জামান (ময়মনসিংহ), ডা. আবুল হাসেম (সিলেট)।

উল্লিখিত ২০ নেতার প্রত্যেকে জাতীয় পরিষদ অথবা প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। দৈনিক পাকিস্তান ও আজাদসহ বিভিন্ন পত্রিকায় এসব নেতার স্বাধীনতাবিরোধী বিবৃতি প্রকাশ হয়। তালিকাভুক্ত এসব আওয়ামী লীগ নেতারা মুক্তিযুদ্ধের সময় কেবল বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে ইয়াহিয়া সরকারের পক্ষই নেননি, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করেন বলেও তাতে উল্লেখ আছে। যে কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়েই সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কিছু গণপরিষদ সদস্যের সদস্য পদ বাতিল করা হয়। অনেকের নাগরিকত্বও বাতিল করা হয়েছিল। উল্লেখিতদের অনেকেই ইতোমধ্যে মারা গেছেন।

’৭১ সালের ৩ জুলাই সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানকে খণ্ডবিখণ্ড করার জন্য জনগণ আমাকে ভোট দেয় নাই।’ ৬ জুলাই মুজিবুর রহমান তালুকদার পৃথক বিবৃতিতে ‘পাকিস্তানকে খণ্ড-বিখণ্ড করার জন্য আওয়ামী লীগের মতলব সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না’ বলে মন্তব্য করেন। হাবিবুর রহমান খান বলেন, ‘পাকিস্তান এক ও অবিচ্ছেদ্য। পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে পারে এমন কোনো শক্তি পৃথিবীতে নেই।’ মুক্তিযুদ্ধের সময় আওয়ামী লীগের যেসব নেতা জেলা ও শহর শাখার শান্তি কমিটিতে ছিলেন তাদেরও তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

সাবেক ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলাম। একাত্তর সালে তিনি জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি রাজাকার কমান্ডার ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। তখন ঢাকার কেরাণীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন, টাঙ্গাইলের সাবেক আওয়ামী লীগ এমপিএ খোদাবক্স মুক্তার, ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মহকুমা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মো. ফিরোজুর রহমান, ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবদুস শুকুর মিয়া, ফরিদপুর আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল মিয়া মোক্তার, অ্যাডভোকেট কাজী খলিলুর রহমান, অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন মিয়া, চট্টগ্রাম সদর মহকুমা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আবুল বাশার, নেত্রকোণার আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল ইসলাম খান, নেত্রকোণা শহর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, মহকুমা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি চাঁদবক্স পাটওয়ারী মোক্তার, নেত্রকোণার বায়লাতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি ডা. গিয়াসউদ্দিন আহমদ, নেত্রকোণা শহর আওয়ামী লীগ সদস্য সোহরাব হোসেন, নেত্রকোণা মহকুমা আওয়ামী লীগ সদস্য এমদাদুল হক, চাঁদপুর আওয়ামী লীগ সভাপতি ডা. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, চাঁদপুর মহকুমা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী মোক্তার, চাঁদপুর রেডক্রস সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, চাঁদপুর মহকুমা আওয়ামী লীগের কার্যকরি সদস্য খুরশিদ আলম চৌধুরী, মহকুমা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ বজলুর রহমান শেখ, চাঁদপুর আওয়ামী লীগ সদস্য ও তরপারচান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান মৃধা, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজ শেখ পাটওয়ারী, চাঁদপুর আওয়ামী লীগ সদস্য ও ঠিকাদার মোফাজ্জল হোসেন, ফরিদগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক ডা. নুরুল ইসলাম, রাজশাহীর সোহরাওয়ার্দী আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান, যশোর আওয়ামী লীগ নেতা মীর তৈয়ব, মোহাম্মদ আবদুল হাকিম বিক্রমপুরী।

নেত্রকোনা শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না। তিনি মুসলমানদের চিরশত্র“ ভারতের সমর্থনপুষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদী দুষ্কৃতকারীদের উৎখাতকল্পে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

সুত্র: আমাদের সময়।

এক শিবির সদস্যের স্বীকারোক্তি : মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কতো ভুল যে জানতাম

www.somewhereinblog.net  ব্লগের একটা লেখা আমার অনেক ভাল লাগল । আমার ব্লগে লেখাটা দেয়ার লোভ সালমাতে পারলাম না । তাই দিয়েদিল ।
ব্লগে>রই একজন ব্লগার যিনি শিবির করেন। তার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল কয়েকদিন আগে, কথায় কথায় এলো ছাগু ডাকা, রাজাকার ডাকা নিয়ে তার আক্ষেপ। এরপর তর্কের এক পর্যায়ে কিছু প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন আমাকে। তার আগে বলে নিচ্ছি, তিনি স্বীকার করেছেন মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানার জন্য তার বড় ভাইরা তাকে যে কয়েকটা বই পড়ার নির্দেশ দিয়েছিল তার মধ্যে মতিউর রহমান রেন্টুর আমার ফাসি চাই নামের একটা নিষিদ্ধ বই রয়েছে। সেই বইয়ের আলোকে তিনি আমাকে কিছু প্রশ্ন করেছেন। আমি সেগুলোর যখন তথ্যপ্রমাণ সহ তাকে উত্তর দেখালাম, তিনি স্বীকার করেছেন যে এসব প্রমাণ আসলেই সত্যি, তিনি ভুল জানতেন, তার মত অনেককেই ভুল শিখানো হয়েছে। প্রশ্নোত্তর গুলো নীচে তুলে দিলাম-

১। শেখ মুজিব ৭ মার্চের ভাষনে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়ার কাছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রি হওয়ার দাবি করেছিলেন কেন? ঐ ভাষনেই মুখ্য ও গুরত্ব পুর্ন বিষয়ই ছিল শেখ মুজিবকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রি করা

উত্তর : এটা ভুল কথা। শেখ মুজিব ও তার দল আওয়ামী লীগ ‘৭০ এর নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন জেতার কারণে অবশ্যই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দাবিদার ছিলেন। ইয়াহিয়া নিজে এসে বলে গেছেন মুজিবই হবেন পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু যখন ১ মার্চ অনির্দিষ্টকালের জন্য সংসদ অধিবেশন স্থগিত রাখা হলো, সারা দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ শুরু হয়ে গেলো। গুলি চললো, মানুষ মরলো। ৭ মার্চের ভাষণে মুজিব এই কথাগুলো বলেছিলেন : ভাইয়েরা আমার, ২৫ তারিখ এসেমব্লি কল করেছে। রক্তের দাগ শুকায় নাই। আমি ১০ তারিখে এসে বলে দিয়েছি যে, ঐ শহীদের রক্তের উপর পাড়া দিয়ে আরটিসিতে (রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স : গোল টেবিল বৈঠক) মুজিবুর রহমান যোগদান করতে পারেনা। এসেমব্লি কল করেছেন, আমার দাবি মানতে হবে প্রথম সামরিক আইন, মার্শাল ল উইথড্র করতে হবে। সমস্ত সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফেরত দিতে হবে। যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তার তদন্ত করতে হবে। আর জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারপরে বিবেচনা করে দেখবো আমরা এসেমব্লিতে বসতে পারবো কি পারবো না। এর পূর্বে এসেমব্লিতে বসতে আমরা পারি না। আমি, আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না। আমরা এ দেশের মানুষের অধিকার চাই।

তাকে জিজ্ঞাসা করলাম ভাষণটা শুনেছেন কিনা। বললেন রাস্তায় বাজাতে শুনেছেন। আমি সিডি ছেড়ে তাকে মন দিয়ে শুনতে বললাম। তিনি মেনে নিলেন যে আসলেই রেন্টু ভুল লিখেছেন।

২। ২৩শে মার্চ পাকিস্তান দিবসে শেখ মজিবরের ধানমন্ডির বাড়িতে স্বাধীন বাংলার পতাকার পরিবর্তে পাকিস্তানের পতাকা উত্তলন করেছিলেন কেন? শেখ হাসিনার ঐক্যমতের সরকারের মন্ত্রি আ,স,ম রব দাবি করেছেন রাষ্টিয় ভাবে ২রা মার্চ কে স্বাধিনতার পতাকা উত্তোলন দিবস পালন করতে হবে। ২রা মার্চ কে যদি পতাকা উত্তোলন দিবস হিসেবে পালন করা হ্য় তাহলে শেখ মজিবোর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষনের গুরত্ব কতটুকো থাকে ?

উত্তর : তাকে একটা ভিডিও ফুটেজ দেখালাম সেদিনের। ২৩ মার্চ শেখ মুজিবের ধানমন্ডী ৩২ নম্বর বাড়িতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা নিজের হাতে উড়িয়েছিলেন এবং হ্যান্ড মাইকে দেওয়া ভাষণে বলেছেন সবাইকে প্রস্তুত থাকতে। ফুটেজটি দেখার পর তিনি স্বীকার করলেন তাকে ভুল শেখানো হয়েছে। রেন্টু মিথ্যা লিখেছেন। তিনি এও স্বীকার করেছেন যে পতাকা উত্তোলনের সঙ্গে ৭ মার্চের ভাষণের তুলনা বাতুলতা।

৩। যেখানে ৭ই মার্চে পাকিস্তান সেনাবাহিনির অবাঙ্গালী দুর্বল হাজার পাচেক সৈন্য কে বন্দি করে প্রায় বিনা যুদ্বে বিনা রক্ত পাতে বাংলাদেশ স্বাধীন করা সম্ভব ছিল। তা না করে পুর্ব পাকিস্তানের সৈন্য সমাবেশ করার পূর্ণ সুযোগ দিয়ে ২৫শে মার্চ বা ২৬মার্চ আমাদের উপর আক্রমন করা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় দেওয়া হয়েছিল কেন?

উত্তর : আমি তাকে মুক্তিযুদ্ধ কোষ খুলে দেখালাম যে ৭ মার্চ শুধু ঢাকাতেই পাকিস্তানী সৈন্য সংখ্যা ছিলো ২৫ হাজার। তারা সেদিন আক্রমণ করার প্রস্তুতি নিয়েই তৈরী ছিলো। বিপরীতে ঢাকায় বাঙালী সেনা সদস্য ছিলেন না তেমন। ইপিআর আর পুলিশের অস্ত্র দিয়ে সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্ক কামানের বিরুদ্ধে লড়াই করা যেত না।

তিনি আমার যুক্তি মেনে নিয়েছেন। স্বীকার করেছেন রেন্টু ভুল লিখেছেন।

৪। ২৫শে মার্চ রাতে ঘরে ডঃ কামাল হোসেন থাকতে এবং হাতের কাছে তাজুদ্দিন আহমেদ সহ অন্যান্য জাতীয় নেতৃবৃন্দ উপস্তিত থাকতেও শেখ মজিবুর রহমান কেন তাদের কছে স্বাধীনতার ঘোষনা দিলেন না?

উত্তর : তাদের কাছে স্বাধীনতার ঘোষণা কেন দেবেন মুজিব। কারণ তখনও পাকিস্তানী বাহিনী গণহত্যা শুরু করেনি। তারা শুরু করা মাত্র মুজিব ওয়ারলেসে ঘোষণা পাঠিয়েছেন। আসল ঘোষণা ৭ মার্চই দিয়ে রেখেছেন যেখানে বলেছেন: আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি ….

শিবির সদস্য স্বীকার করেছেন যে রেন্টু এই কথাটা ফালতু লিখেছেন।

৫। ২৫ মার্চের কালো রাতে নিরীহ নিরস্র বাঙালির উপর পাকিস্তানি বর্বর বাহিনি যখন পৈচাশিক আক্রমন করলো এবং নির্বিভচারে বাঙালি হত্যা করতে লাগলো এবং বাঙালী সৈনিক, ই,পি,আর, পুলিস আনসার পাকিস্তানী হানাদারের মোকামেলায় যুদ্ব করতে লাগলো তখন শেখ মুজিবর রহমান দিশেহারা বাঙালীর নেতৃত্ব না দিয়ে কেন পাকিস্তানিদের কাছে ধরা দিলেন?

উত্তর : কারণ এক প্লাটুন কমান্ডো বাড়ি ঘেরাও করে তাকে গ্রেপ্তার করেছেন। তারা গুলি করছিলো। ঘরে নারী ও শিশুরা ছিলো যাদের জীবন নাশের আশঙ্কা ছিলো। আর শেখ মুজিব তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনও পলায়ন করেন নাই। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ও তিনি বুক চিতিয়ে ঘাতকদের মুখোমুখি হয়েছেন। বুকে গুলি খেয়েছেন, পিঠে খান নাই।

১৯৭৬ সালে মুসা সাদিককে দেয়া এক সাক্ষাতকারে টিক্কা বলেছিলেন : “I knew very well that a leader of his stature would never go away leaving behind his countrymen. I would have made a thorough search in every house and road in Dhaka to find out Sheikh Mujib. I had no intention to arrest leaders like Tajuddin and others. That is why they could leave Dhaka so easily.” Then Tikka Khan said more in a very firm voice, “in case we failed to arrest Sheik Mujib on that very night, my force would have inflicted a mortal blow at each home in Dhaka and elsewhere in Bangladesh. We probably would have killed crores of Bangalees in revenge on that night alone.”

তার মানে তাকে কেন্দ্র করে নির্বিচার গণহত্যা ঠেকাতেই নিজের জীবনের উপর ঝুঁকি নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

শিবিরের সদস্য ব্লগারটি স্বীকার করলেন যে রেন্টু ভুল লিখেছেন। ওই পরিস্থিতিতে শেখ মুজিব সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন।

৬। তাহলে কি শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনা যে বলেন ২৬শে মার্চ দুপুর আরাইটা তিনটায় পাকিস্তানের জেনারেল টিক্কা খান আমাদের বাসায় এসে আব্বাকে(শেখ মজিবকে) সেলুট দিল, মাকে (বেগম মুজিব) সেলুট দিল, দিয়ে আব্বাকে বললো স্যার, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আপনার সাথে আলোচনা করার জন্য আমাকে একটি স্পেশাল বিমান সহ পাঠিয়েছে, আপনাকে রওয়ালপিন্ডি(পাকিস্তানের তখনকার রাজধানী) নিয়ে যাওয়ার জন্য। আপনি ম্যাডামকে (বেগম মজিব) সাথে নিতে পারেন। চাইলে অন্য কাউকে নিতে পারেন। আব্বাকে সসম্মানে জেনারেল টিক্কা খান নিয়ে গেল। যাওয়ার সময় মাকে জেনারেল টিক্কা খান সেলুট দিয়ে গেল। তাহলে এটাই কি সত্যি?

উত্তর : টিক্কা খান শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তার করতে যাননি। গিয়েছিলেন মেজর জহির আলম খান একদল কমান্ডো নিয়ে। জহির আলম এ নিয়ে তার স্মৃতিকথায় যা লিখেছেন তার মধ্যে মুজিব ওয়ারলেসে কিছু ট্রান্সমিট করেছেন এই কথা আছে। আর মুজিবকে সেলুট দেওয়া দূরে থাক তার বদলে তার গায়ে হাত তোলার কথা লিখেছেন জহির।

যিনি গ্রেপ্তারে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তার কথাকেই রেন্টুর মিথ্যাচারের বদলে গুরুত্ব দিয়েছেন শিবির সদস্যটি। তিনি স্বীকার করেছেন রেন্টু বানিয়ে বলেছেন এসব কথা যা হাসিনা কোনোদিনও কোনো গণমাধ্যমে বলেননি।

৭। শেখ মুজিবর রহমান কি মনে করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান তাকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রি বানানোর জন্য রাওয়ালপিন্ডি যাচ্ছেন? আর তাই কি পাকিস্তানী হানাদার বাহিনির আক্রমনের মুখে গোটা বাঙালি জাতিকে অসহায় অরক্ষিত রেখে তিনি জেনারেল টিক্কা খানের সাথে পাকিস্তান চলে গেলেন?

উত্তর : টিক্কা খান মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশেই ছিলেন। শেখ মুজিবের সঙ্গে তিনি পাকিস্তান জাননি। আর শেখ মুজিবকে পাকিস্তান নিয়ে যাওয়া হয়েছে দেশদ্রোহিতার জন্য বিচার করতে। প্রধানমন্ত্রী বানাতে নয়।

শিবির সদস্যটি স্বীকার করেছেন রেন্টু মিথ্যে কথা লিখেছেন। তাকে ভুল শেখানো হয়েছে।

৮। পাকিস্তানী নরপিচাশ হায়নাদের আক্রমনের মুখে আপোষকামি
নেতার আপোষের ফলে, দিশেহারা নাবিকের মতো কিংকর্তব্যবিমুর
বাঙালি জাতি।ঠিক সেই সময় পাকিস্তানী সেনাবাহিনির কঠোর শৃংখলার মধ্যে থাকা বাঙালী সৈনিক, পাকিস্তানী সেনা আইনে ফায়ারিং স্কোয়ার্ডে
মৃত্যুদন্ডের সম্পুর্ণ ঝুকি নিয়ে নেতৃত্বশূন্য দিশেহারা বাঙালিকে নেতৃত্ব ও পথের দিশা দিতে এগিয়ে এলেন এক তরুন বাঙালি সৈনিক ।

মুক্তি পাগল স্বাধীনতাকামী মানুষকে তিনি শোনালেন স্বাধীনতার অমর বাণী চট্রগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি ঘোষনা করলেন,আমি মেজর জিয়া বলছি, আমি স্বাধীনতা ঘোষনা করলাম। ২৭শে মার্চ
প্রতুষে ইথারে ভেসে এলো এই অমর স্বাধীনতার বাণী। সঙ্গে সঙ্গে বাংলার মুক্তি পাগল দামাল ছেলেরা ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লো মুক্তিযু্দ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার জন্য। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান প্রথমে ঘোষনা করলেন, “আই অ্যাম মেজর জিয়া, পেসিডেন্ট অফ পিপলস রিপাবলিক অফ বাংলাদেশ, আই ডিকলেয়ারর্ড ইনডিপেনডেন্ট অব বাংলাদেশ।” পরে কৌশলগত কারণে তিনি বল্লেন, আই অ্যাম মেজর জিয়া, আই ডিকলেয়ারর্ড ইনডিপেনডেন্স অফ বাংলাদেশ অন বিহাব অফ আওয়ার গ্রেট লিডার শেখ মুজিবুর রহমান।”
মেজর জিয়াউর রহমানের ঘোষণাই কি পাকিস্থানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সাথে আপোষের ভিত্তিতে শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষমতা গ্রহনের পথে অন্তরায় হলো?

উত্তর : এই বিষয়ে নুরুজ্জামান মানিকের একটি লেখা পড়ালাম শিবির সদস্যটিকে। তিনি স্বীকার করলেন যে বেলাল মোহাম্মদ ডেকে না আনলে জিয়ার পক্ষে সেই ঘোষণা পাঠের কোনো সম্ভাবনাই ছিলো না। তা ছাড়া ঘোষণার আগেই স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। তা ছাড়া ২৭ মার্চ প্রত্যুষে নয়, সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ঘোষণাটি পাঠ করেছিলেন জিয়া। তার আগে লোকজন হাত পা গুটিয়ে বসে থাকেনি।

শিবির সদস্যটি স্বীকার করলেন রেন্টু বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে আসলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেছেন। তার আসলেই ফাসি হওয়া দরকার।